দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন সাবেক উপমন্ত্রী ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আ. হাই। অবশেষে গত বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৭ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরের মিরেশ্বরাই সামাজিক কবরস্থানে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে বাদ মাগরিব মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজায় স্থানীয় পর্যায়ে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন হেফাজতে ইসলামীর সহসভাপতি মাওলানা নূর হোসেন নূরানী। জানাজায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের ঢল নামে।
দ্বিতীয় জানাজায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে জামায়াতে ইসলামীর মুন্সীগঞ্জ জেলা আমির আজম রুহুল কুদ্দুস, সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন রাজী এবং গণ অধিকার পরিষদের মহাসচিব মনসুর আহমেদ শোকবার্তা প্রদান করেন। এ সময় মরহুমের ভাই মো. মহিউদ্দিন ও বড় ছেলে ইফতেখারুল আলম রিপন উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। হাইয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী, মুন্সীগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।



