জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার জলজ পরিবেশ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে। এই সংকট মোকাবিলায় জলবায়ু-সহনশীল মৎস্য ও জলজ চাষ পদ্ধতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কুমিল্লার বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (বার্ড) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী এক আঞ্চলিক কর্মশালা। ‘দক্ষিণ এশিয়ায় জনগোষ্ঠীভিত্তিক জলবায়ু-সহনশীল জলজ চাষ উন্নয়ন’ শীর্ষক এই কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র ও শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম (শিশুক)।
শনিবার আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব প্রশমনে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন। কর্মশালায় বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন। তারা বন্যা, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা অনুপ্রবেশের মতো জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন।
অনুষ্ঠানে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক ও সার্ক মহাসচিবের প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ তরফদার অভিন্ন জলবায়ু সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি শবনম শিবাকোটি মৎস্য ও জলজ চাষের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে আঞ্চলিক প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, জলবায়ু অভিযোজনে সম্মিলিত উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দিতে পারে।
সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. গোলাম মাহবুব মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকা রক্ষায় নীতিনির্ধারক, গবেষক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। এছাড়া বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওহাব মূল প্রবন্ধে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তি বিনিময়ের বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরেন। একইভাবে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম মৎস্য গবেষণায় উদ্ভাবনী শক্তির ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।
কর্মশালার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য নিয়ে কথা বলেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ফিশারিজ) ড. মো. শরীফুল ইসলাম এবং শিশুকের নির্বাহী পরিচালক সাকিউল মিল্লাত মোরশেদ। তারা প্রত্যেকেই জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মৎস্যচাষিদের ক্ষমতায়ন ও মাঠপর্যায়ে জনগোষ্ঠীভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
এই তিন দিনের আয়োজনে জলবায়ু ঝুঁকি পর্যালোচনা, স্মার্ট জলজ চাষের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং টেকসই মৎস্য খাত উন্নয়নের জন্য দেশভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। কর্মশালার সমাপ্তি পর্বে অংশগ্রহণকারীরা কুমিল্লার সফল ‘দাউদকান্দি প্লাবনভূমি মডেল’ সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন, যা তাদের টেকসই প্লাবনভূমি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে।



