আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে কাতারের চরম সতর্কবার্তা

, বিশ্ব

আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে কাতারের চরম সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দোহায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরাম’-এ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি। তিনি জানান, উভয় পক্ষই কূটনৈতিক উপায়ে সংকট নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচনার গোপনীয়তা বজায় রাখাকেই তিনি মধ্যস্থতাকারীদের সফলতার প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আলোচনার গোপনীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বিষয়ে মিডিয়ায় বিস্তারিত তথ্য না আসাই প্রমাণ করে মধ্যস্থতাকারীরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে বর্তমান সামরিক উত্তেজনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. মাজেদ সতর্ক করেছেন যে, এই পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়লে পুরো অঞ্চল একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন, এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বশান্তির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। অতীতে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা পুরো অঞ্চলকে এমন এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক শান্তিকে বিঘ্নিত করবে।

সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কাতার পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছে। সম্প্রতি সৌদির সীমান্তে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষিতে ড. মাজেদ জানান, নিজেদের সুরক্ষায় সৌদি আরব যেকোনো পদক্ষেপ নিলে দোহা তাদের পাশে থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি হলো একটি স্থায়ী সমাধানের প্রবেশদ্বার। তাই মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিতে আঞ্চলিক সংকটগুলো সামগ্রিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। সম্প্রতি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় রিয়াদের পাশে শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আঞ্চলিক অস্থিরতাকে ব্যবহারের প্রচেষ্টার কঠোর সমালোচনাও করেছেন কাতারের এই কর্মকর্তা। সংকট নিরসনে তিনি সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।