ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।
৬৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ জেনারেল বর্তমানে ‘ইয়াশার’ নামের একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করা আইজেনকোট ২০২২ সালে বেনি গান্টজের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ইউনিটি জোটের মাধ্যমে রাজনীতির ময়দানে নামেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গঠিত যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেও যুদ্ধের লক্ষ্য ও সমাপ্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে গভীর মতবিরোধের জেরে ২০২৪ সালের জুনে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
গাজায় যুদ্ধ পরিচালনা এবং সংঘাত শেষ করার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই বলে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন আইজেনকোট। এর পাশাপাশি, যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যেই তার পারিবারিক ট্র্যাজেডির ঘটনাগুলো ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় যুদ্ধে তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল এবং একই মাসে তার এক ভাতিজা নিহত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় সামরিক অভিযানে তার আরেক ভাতিজাও প্রাণ হারান। এই ব্যক্তিগত ক্ষতি তাকে ভোটারদের একটি অংশের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় অংশ নেওয়ার সময় আরেক ভাতিজার মৃত্যু হয়।
২০০৮ সালে লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘দাহিয়েহ ডকট্রিন’ বা ‘অনুপাতহীন শক্তি’ প্রয়োগের সামরিক নীতি প্রবর্তনের মাধ্যমে আইজেনকোট অতীতে বেশ আলোচিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি পেশাদার সরকার প্রতিষ্ঠা, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা এবং ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় চরম ব্যর্থতার বিষয়টি তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছেন। তিনি ‘দাহিয়েহ ডকট্রিন’ নামে পরিচিত একটি সামরিক নীতির কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। এ নীতিতে হিজবুল্লাহ ও হামাসের বিরুদ্ধে ‘অনুপাতহীন শক্তি’ প্রয়োগ এবং বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস করার ধারণা রয়েছে।
যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ছাড়ার প্রায় এক বছর পর ‘ইয়াশার’ দল গঠন করা আইজেনকোটের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে তিনি যুদ্ধ অর্জনে ইসরাইল সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অধিক মাত্রায় নির্ভরশীলতার সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে, যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তাকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। নির্বাচনের পর সরকার গঠনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সাথে জোট করার সম্ভাবনা তিনি দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছেন, যা তাকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।



