কেইন: ‘দেখো! আমরা করে দেখিয়েছি!’ ব্যালন ডি’অর জিতে স্ত্রীকে

, খেলা

কেইন: ‘দেখো! আমরা করে দেখিয়েছি!’ ব্যালন ডি’অর জিতে স্ত্রীকে

বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্মাননা ব্যালন ডি’অর জয়ের পর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত জমকালো আয়োজনে ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেন। এই জয়ের মাধ্যমে ২৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করলেন। বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা তার সাফল্যের পুরো কৃতিত্বই উৎসর্গ করেছেন নিজের পরিবার ও প্রিয়জনদের।

পুরস্কার নেওয়ার পর প্রায় ১০ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্যে কেইন তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও চার সন্তানের মা কেটি গুডল্যান্ডকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। পুরস্কার গ্রহণের পর কেইনের বক্তব্যে উঠে আসে পরিবার, ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের সংগ্রামের কথা।

তিনি বলেন, ‘কেটি, তুমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।

আমাদের জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের সঙ্গী তুমিই আমার সবচেয়ে বড় সমর্থক।

ফল ঘোষণার আগের সেই উদ্বেগের সময়টা তোমার জন্য কতটা কঠিন ছিল, আমি জানি। অবশেষে সেই মুহূর্ত এসেছে। দেখো! আমরা পেরেছি! আমরা করে দেখিয়েছি! কেইন আরও যোগ করেন যে, তার স্বপ্ন পূরণে স্ত্রী অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং তাকে ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না। এই ট্রফিটি কেবল তার নয়, এটি পুরো পরিবারের অর্জন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এই পুরস্কারের পেছনে পরিবারের সবার অবদান রয়েছে। স্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এই ট্রফি আমরা উদযাপন করব, শুধু আমি নয়। তাই আমি শুধু তোমাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

বক্তৃতার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ভাইয়ের প্রতি তার কৃতজ্ঞতা। ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে কেইন বলেন, ‘আজ রাতে আমার ভাই চার্লি এখানে উপস্থিত আছে। আমাদের ছোটবেলার দিনগুলো মনে পড়ে, যখন আমরা বাগানে বা পার্কে ফুটবল নিয়ে মেতে থাকতাম। আমরা ফুটবল পাগল ছিলাম।’ বড় ভাইয়ের উৎসাহ ও সমর্থনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, চার্লি নিজের পরিবারকে সময় না দিয়েও তাকে সমর্থন করতে এবং খেলা দেখতে ভ্রমণ করেছে। কেইন স্বীকার করেন, তার ফুটবলের অনেক কৌশলই বড় ভাইয়ের কাছ থেকে শেখা। মা-বাবার কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মা-বাবার প্রতিও গভীর আবেগ প্রকাশ করেছেন এই তারকা ফুটবলার। কেইন বলেন, ‘মা ও বাবা, তোমরা এখনো আমার পাশে আছ। ছোটবেলায় অনুশীলনে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ইংল্যান্ড কিংবা জার্মানিতে আমার খেলা দেখতে আসা পর্যন্ত তোমরা প্রতিটি ধাপে সমর্থন দিয়েছ।’ তিনি জানান, মা-বাবা তাকে কখনোই পেশাদার ফুটবলার হওয়ার জন্য চাপ দেননি, বরং কঠোর পরিশ্রম ও নতুন কিছু শেখার শিক্ষাই দিয়েছেন। এই নৈতিক শিক্ষাই তাকে আজকের এই সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, ‘ফুটবলার হতেই হবে, এমন কোনো চাপ তোমরা কখনো দাওনি।

পরিবারের নতুন প্রজন্মের কথা বলতে গিয়ে কেইন হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে জানান, অনুষ্ঠান অনেক রাত পর্যন্ত গড়িয়ে যাওয়ায় তার চার সন্তান—আইভি, ভিভিয়েন, লুইস ও হেনরি—ইতিমধ্যেই হয়তো ঘুমানোর সময় পেরিয়ে গেছে। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরাই আমার সবকিছু করার মূল কারণ।’ সন্তানদের সামনে একজন ভালো বাবা ও পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান জানিয়ে কেইন বলেন, ‘এই ট্রফি বাড়িতে নিয়ে গেলেও তোমরা এর গুরুত্ব হয়তো এখনই বুঝবে না, তবে কঠোর পরিশ্রম ও নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার অর্থ আমি তোমাদের দেখাতে চাই। আমি আরও ট্রফি তোমাদের জন্য নিয়ে আসব।’ তোমাদের দেওয়া এই শিক্ষাগুলোই আমাকে সফল হতে সাহায্য করেছে। মজার ছলে জানান, অনুষ্ঠান শেষ হতে দেরি হওয়ায় তখন তাদের ঘুমানোর সময়ও পেরিয়ে গেছে।