ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে উত্তেজনার পারদ চড়েছে। সাদমান ইসলামের ব্যাটে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন শুরুর আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ২৭২ রানে। তবে দিনের শেষ সেশনে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ২১৩ রান নিয়ে খেলতে নামা বাংলাদেশ মাত্র ৫৯ রান যোগ করতেই হারিয়ে ফেলে বাকি ৭ উইকেট। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা সাদমান ইসলাম দিনের দ্বিতীয় বলেই নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৩১১ টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। তবে শতকের পর দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেননি এই ওপেনার; অভিষিক্ত বিশপের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১১টি চারের মারে ১০৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ৩১ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে সাদমানের তৃতীয় সেঞ্চুরি এটি। ২২০ বলে সেঞ্চুরি করেছেন সাদমান। আগের সেঞ্চুরিটি এসেছিল ১৭ ইনিংস আগে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেই সেঞ্চুরিটি করেছিলেন তিনি। সেঞ্চুরির পর আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সাদমান। তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেছেন অভিষিক্ত বিশপ। ১১ চারে ১০৫ রান করে ফিরেছেন সাদমান। ওয়ারিক্যানের ২৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি তৃতীয় ৫ উইকেট।
গতকাল রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া তাওহীদ হৃদয় আজ ব্যক্তিগত ৪২ রানের সঙ্গে আর কোনো রান যোগ করতে পারেননি। তিনিও অভিষিক্ত বিশপের শিকার হয়ে বোল্ড হন। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২ রানের একটি জুটি গড়েন। মিরাজকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন জোমেল ওয়ারিক্যান। মিরাজের বিদায়ের পর মাত্র ১৯ রানের ব্যবধানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত লিটন দাস ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। গত দিন ১০ রান নিয়ে দিন শেষ করা লিটন আজ ৩৪ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন।
উইন্ডিজের পক্ষে বোলিং তোপ দাগেন জোমেল ওয়ারিক্যান। গতকাল ২ উইকেট পাওয়া এই স্পিনার আজ শেষ ৩ উইকেটসহ মোট ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করেছিল ক্যারিবীয়রা। জন ক্যাম্পবেলের ফিফটিতে চা বিরতির আগে ১ উইকেটে ৮৯ রান তুলে ফেলে সফরকারীরা। বৃষ্টির কারণে বিরতির আগে ঘণ্টাখানেক খেলা বন্ধ ছিল, আর সেই বিরতিই বাংলাদেশের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশকে দ্রত অলআউট করে দিয়ে ব্যাটিংয়েও শুরুটা ভালো ছিল ক্যারিবীয়দের। তবে শুরুর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি ক্যারিবীয়রা।
বিরতির পর মাঠে নেমেই ৮ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরাজের হাওয়ায় ভাসানো বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫৪ রান করা ক্যাম্পবেল। তাইজুলের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে তানজিদের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন জাঙ্গু।
এক ওভারে জোড়া আঘাত হানেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ৩৬তম ওভারের তৃতীয় বলে কাভেম হজকে মুমিনুল হকের ক্যাচ বানান এবং পঞ্চম বলে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন আমির জাঙ্গুকে।
দ্রুত উইকেট পতন হলেও দিনশেষে আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি ত্যাগনারায়ন চন্দরপল এবং জাস্টিন গ্রিভস। ত্যাগনারায়ন ৪৩ এবং গ্রিভস ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। দিনশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৪ রান। বাংলাদেশের চেয়ে তারা এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে আছে। দ্রুত ৩ উইকেট চলে যাওয়ায়া উইন্ডিজের ব্যাটিং ধসের একটা আশঙ্কা তৈরি হলেও দিনের শেষদিকে আর কোনো বিপদ আসতে দেননি ত্যাগনারায়ন চন্দরপল এবং জাস্টিন গ্রিভস।



