কোচ: সেন্টারব্যাক থেকে কেন ‘স্ট্রাইকার’ হলেন বিশ্বনাথ

, খেলা

কোচ: সেন্টারব্যাক থেকে কেন ‘স্ট্রাইকার’ হলেন বিশ্বনাথ

ভুটানের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশ দেখে মনে হচ্ছিল দলে পাঁচজন ডিফেন্ডার রয়েছেন। কিন্তু খেলা শুরুর পর দেখা যায় বড় চমক, প্রথাগত রাইটব্যাক বা সেন্টারব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষকে খেলানো হচ্ছে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে। মাঠের শমিত শোমের ওপরে এবং দুই উইঙ্গার ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও রাকিব হোসেনের মাঝে স্ট্রাইকারের ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। একাদশ দেখে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ম্যাচটাতে নেমেছে ৫ ডিফেন্ডার নিয়ে। তার প্রথাগত পজিশনটা রাইটব্যাকের, ক্ষেত্রবিশেষে খেলতেন সেন্টারব্যাকের ভূমিকায়। কিন্তু থমাস ডুলি যুগে বিশ্বনাথ ঘোষের রূপটাই বদলে গেল একেবারে। তার একটা কৃতিত্ব বিশ্বনাথ পাবেন অবশ্যই। মুভমেন্টের কারণে বেশ কিছু দারুণ আক্রমণও করেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের আক্রমণের ধার বজায় রাখতে বিশ্বনাথের প্রেস ও মুভমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে ফরোয়ার্ডসুলভ ফিনিশিংয়ের অভাবে তিনি গোল পাননি। ১৭ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রস থেকে এবং ২৬ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার কর্নার থেকে পাওয়া সহজ সুযোগগুলো হাতছাড়া হয় তার। এছাড়া ৩৯ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি বল লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন। তবে ফরোয়ার্ডসুলভ দক্ষতার অভাব ছিল, নাহয় সুযোগ যা পেয়েছেন, তাতে তার হ্যাটট্রিকই হয়ে যেতে পারত। ১৭ মিনিটে সাদ উদ্দিনের ক্রস থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন, কাজে লাগাতে পারেননি, ২৬ মিনিটে জামাল ভূঁইয়ার কর্নার থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন, সে সুযোগও হাতছাড়া হয়ে গেছে ফিনিশিংয়ের অভাবে। ৩৯ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন, তার শটটা বেরিয়ে যায় লক্ষ্যের একটু বাইরে দিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটের দিকে তাকে তুলে নিয়ে মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে মাঠে নামান কোচ। শেষ পর্যন্ত ৭৩ মিনিটে ইব্রাহিমের করা একমাত্র গোলেই ভুটানকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে কোচ থমাস ডুলি বিশ্বনাথের এই পজিশন পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। যার ফলে ৬০ মিনিটের আশেপাশে তাকে তুলে নেওয়া হয়, বদলে আনা হয় মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে। ৭৩ মিনিটে সেই ইব্রাহিমই গোলটা এনে দেন দলকে।

ডুলি জানান, সান মারিনো ম্যাচের সময় থেকেই তিনি বিশ্বনাথের খেলার ধরনে মুগ্ধ। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে আগেই সতর্ক করেছিলাম যে সেন্টার-ব্যাক হিসেবে খেললে তার অতিরিক্ত তীব্রতার কারণে পেনাল্টি বা লাল কার্ডের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া রাইট-ব্যাক হিসেবে খেললেও বক্সের ভেতরে ডিফেন্ড করার চাপ থাকে। তার কাজের ক্ষমতা (ওয়ার্করেট) অসাধারণ এবং সে ঝুঁকির মুখে পড়তে পিছপা হয় না।’ প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির শুরুটা হতো তার প্রেস থেকেই। সে তার পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে খেলে, যা আমার খুব পছন্দ।’। নাম্বার নাইন হিসেবে আপনাকে সেখানেই যেতে হবে, যেখানে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং সে এতে মোটেও পিছপা হয় না।

সান মারিনোতে রাইট-ফরোয়ার্ড হিসেবে বিশ্বনাথের সফল পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করে কোচ বলেন, ‘সেখানে সে গোলরক্ষকের সঙ্গে দুবার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল এবং আমাদের দ্বিতীয় গোলে অ্যাসিস্টও করেছে। ডান দিকে সাদ এবং রক্ষণে তারিক ভালো করায় আমি চেয়েছিলাম বিশ্বনাথ এমন একটি পজিশনে খেলুক যেখানে সে দলকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারবে। গোল না পেলেও তার অবদান নিয়ে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’ সে গোলরক্ষকের সঙ্গে দুটি ওয়ান-অন-ওয়ান সুযোগ পেয়েছিল, আমাদের দ্বিতীয় গোলে অ্যাসিস্ট করেছিল এবং দারুণ এনার্জি দিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের চাপে রেখেছিল। আশা করছিলাম, সে আজ গোল পাবে; তবে সুযোগটিতে ভাগ্য সহায় না হলেও তার অবদান নিয়ে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট।’।