রংপুরে চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু: ময়নাতদন্তের তথ্যে পুলিশের বক্তব্যের অমিল

, বাংলাদেশ

রংপুরে চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু: ময়নাতদন্তের তথ্যে পুলিশের বক্তব্যের অমিল

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের চার সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের কিছু তথ্যের গরমিল পাওয়া গেছে। সোমবার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, ভিকটিমদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি অনুযায়ী, একজনের চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। এছাড়া লাশের চেহারা এসিডে ঝলসে যাওয়ার যে গুজব ছড়িয়েছে, তারও কোনো সত্যতা ময়নাতদন্তে মেলেনি। চিকিৎসকের মতে, দীর্ঘ সময় লাশ পড়ে থাকার কারণেই চেহারা এমনটা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সংগৃহীত নমুনা সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। এর আগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ দাবি করেছিলেন, আগামী চক্রবর্তীর চোখ বেরিয়ে আসা ও চোয়াল ভাঙার মতো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার সন্ধ্যায়, যখন স্বজনরা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ তালা ভেঙে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়

  1. আগামী চক্রবর্তী (২৫), যার লাশ পাওয়া যায় সিঁড়িতে।
  2. প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২), যার লাশ দোতলার শোবার ঘরে পাওয়া যায়।
  3. গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), যার লাশ উদ্ধার করা হয় চিলেকোঠা থেকে।
  4. মুগ্ধ দাস (২৩), যিনি সিটি বাজারের মাছের দোকানের কর্মচারী।
  5. সিদ্ধার্থ দাস (১৯), যিনি স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতেন এবং মুগ্ধ দাসের মামাতো ভাই।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় রংপুরসহ সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস সম্পর্কে মামাতো ভাই এবং তারা স্থানীয় বাসিন্দা। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘ভিকটিম চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেকেই গুজব রটিয়েছে যে এসিড ব্যবহার করে লাশগুলোর চেহারা নষ্ট করা হয়েছে।