বাংলাদেশে যে কয়েকজন পরিচিত মুখ রয়েছে এবং যাদের কথায় তরুণ প্রজন্ম দারুণভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকেন, তাদের মধ্যে মাশরাফি বিন মর্তুজা অন্যতম। অথচ তরুণ প্রজন্মের যৌক্তিক আন্দোলনে (কোটা সংস্কার আন্দোলন) সেই মাশরাফিই ছিলেন পুরোপুরি নিশ্চুপ। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়কের এমন অবস্থানে একেবারেই হতাশ হয়েছেন তরুণরা। সেই সঙ্গে ক্ষুব্ধও হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংসদ সদস্য হওয়ার কারণেই হয়তো দলের বাইরে গিয়ে কিছু বলতে পারেননি সাবেক এই ক্রিকেটার।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পতন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের। পদত্যাগ করে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। দলপ্রধানের দেশত্যাগের পর গা ঢাকা দিয়েছেন বাকি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা। অনেকে দেশও ছেড়েছেন।
শেখ হাসিনার পতনের দিন আওয়ামী লীগের অনেক এমপি ও মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা হয়েছে। অনেকের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন হামলাকারীরা। বাদ যায়নি মাশরাফির বাড়িও। নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফির বাড়িটিতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
আওয়ামী লীগ গঠিত সরকারের পতনের এক সপ্তাহের বেশি সময় গেলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি মাশরাফি। ৯ দিন পর অবশেষে একটি বেসরকারি অনলাইন পোর্টালের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, অন্যান্যদের মতো দেশ ছেড়ে যাননি মাশরাফি। ঢাকাতেই আছেন তিনি।
মায়ের জন্য নড়াইলে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন মাশরাফি। মূলত, সেই বাড়িটিই পুড়িয়ে দিয়েছে দুবৃত্তরা। মাশরাফি মনে করছেন, দূর থেকে কেই এসে এই কাজ করেনি। নড়াইলের মানুষই তার বাড়িটি পুড়িয়েছে। তবে যারা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেবেন না বলে জানিয়েছেন মাশরাফি।
অগ্নিসংযোগের আগে সেই বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন মাশরাফির মা-বাবা। তবে নিরাপদে সরে যেতে পেরেছেন তারা। বাড়িটিতে মাশরাফির ক্রিকেটীয় জীবনের সব স্মারক ছিল। সেগুলোও পুড়ে গেছে।
এ বিষয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমি তো এমন বড় ক্রিকেটার নই বা এমন নয় যে অনেক পুরস্কার পেয়েছি। তবে যা কিছু পেয়েছি, প্রায় সব ওখানেই ছিল। ঢাকায় কিছু নেই। সব পুড়ে শেষ। এমন নয় যে, স্মারকগুলির প্রতি আমার টান অনেক বেশি ছিল। তবে মাঝেমধ্যে দেখতে ভালো লাগতো। অনেক লোকে বাড়িতে যেতো এসব দেখতে। সবার জন্যই তো দুয়ার খোলা ছিল। কিছুই আর নেই। তবে দিনশেষে সান্ত্বনা যে, বাবা-মা অন্তত প্রাণে বেঁচে গেছেন। যা গেছে, কথা বলে লাভ নেই।’