চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা আক্রমণের অংশ হিসেবে পরিচালিত এক ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নিহত হয়েছিলেন ইরানি বিমান বাহিনীর পাইলট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমি। দীর্ঘ সময় পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর কাতার থেকে মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
ইরানি সেনাবাহিনী ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ শিরাজের শহীদ دوران বিমানঘাঁটি থেকে ইরানের দুটি সুখোই-২৪ (Su-24) যুদ্ধবিমান কাতারের রাজধানী দোহার অদূরে অবস্থিত মার্কিন আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি (Al Udeid Air Base) লক্ষ্য করে মিশন পরিচালনা করে। সর্বাধুনিক রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে পারস্য উপসাগরের আকাশসীমা অতিক্রম করে বিমান দুটি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় মার্কিন ঘাঁটির অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়।
মিশন শেষে ফেরার পথে পারস্য উপসাগরের ওপর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে একটি সুখোই-২৪ বিমান ভূপাতিত হলে জেনারেল মাজিদ কাজেমি নিহত হন। ঘটনার পর ফরেনসিক পরীক্ষা ও ডিএনএ যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁর মরদেহ শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তেহরানের শহীদ লাশগারী ঘাঁটিতে সামরিক সম্মান জানানোর পর তাঁর জন্মস্থান শিরাজে দাফন সম্পন্ন হয়। এই অভিযানে অংশ নেওয়া অপর তিন বৈমানিক ও ক্রু সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
আল-উদেইদ ঘাঁটিতে এই হামলার ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে তাদের বেশ কিছু সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। যদিও ইরান এই পাইলটকে জাতীয় বীর হিসেবে অভিহিত করেছে, তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সংঘাতকে আরও জটিল ও বহুমুখী করে তুলেছে।
সূত্র: গালফ বাংলা



