অনলাইন ও অফলাইনে অবাধে মিলছে উগ্রবাদী জিহাদি বই

, বাংলাদেশ

অনলাইন ও অফলাইনে অবাধে মিলছে উগ্রবাদী জিহাদি বই

দেশের অনলাইন ই-বুক শপ এবং বিভিন্ন প্রকাশনীতে উগ্রবাদী ও জিহাদি মতাদর্শের বই অবাধে বিক্রি হচ্ছে। কোনো ধরনের নজরদারি ছাড়াই ওসামা বিন লাদেন, আল-কায়দা ও আইএস নেতাদের লেখা বই অনলাইন ও অফলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। অনলাইনে অর্ডার করলে কুরিয়ারে পাঠকের বাসায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বইগুলো। এছাড়া কিছু ই-বুক শপে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে অর্থ পরিশোধ করে পিডিএফ আকারেও এসব বই সংগ্রহ করা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে বইমেলা ও স্টলে প্রকাশ্যে এসব উগ্রবাদী বইয়ের বেচাকেনা চলছে।

অনলাইনে উগ্রবাদী বই বিক্রির অন্যতম বড় প্ল্যাটফরম হলো ওয়াফিলাইফ। ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই ই-বুক শপটির কার্যক্রম পরিচালিত হয় মহাখালী ডিওএইচএস থেকে। প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রম অবশ্য আশুলিয়ার গাজিরচটের একটি মাদ্রাসায় অবস্থিত। এর দায়িত্বে রয়েছেন রুবায়েত আসিরুল বারী। এই প্রতিষ্ঠানের সাইটে এমন অনেক বই পাওয়া গেছে, যেগুলো অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উগ্রবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের আশুলিয়ায় ওয়াফিলাইফ স্টাইল নামে একটি মিনি গার্মেন্টসও রয়েছে, যেখানে টুপি ও পাঞ্জাবি তৈরি করা হয়।

ওয়াফিলাইফের তালিকায় রয়েছে আবু ইয়াহইয়া আল-লিবির ‘শহীদের মর্যাদা চল্লিশ হাদিস’। আল-কায়দার শীর্ষ নেতা ও প্রচারক আল-লিবিকে মার্কিন কাউন্টার টেররিজম সেন্টার তাদের নথিতে কর্মকাণ্ড বৈধ করার প্রচারক হিসেবে উল্লেখ করেছে। এছাড়া আবদুল্লাহ আযযামের ‘মুসলিম ভূমির প্রতিরক্ষা করা ঈমান আনার পর প্রথম ফরজ’ এবং ‘আফগান রণাঙ্গনে’-এর মতো জিহাদি মতাদর্শ প্রচারের বইগুলো তাদের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন ২০২২ সালে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার সদস্যদের গ্রেপ্তারের সময় ‘নেদায়ে তাওহীদ’ নামক বইয়ের ৪টি কপি উদ্ধার করে এবং সেটিকে উগ্রবাদী কিতাব হিসেবে চিহ্নিত করে।

এছাড়াও আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের জীবনী ও সংশ্লিষ্টতার ওপর লেখা অসংখ্য বই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ওসামার সঙ্গে আমার জীবন’, ‘দ্য কিলিং অব ওসামা’, ‘দ্য রোড টু আল-কায়দা’, ‘কান্দাহারের ডায়েরি’, ‘জেগে ওঠো হে উম্মাহ্’, ‘জিহাদ সন্ত্রাস না রহমত’ এবং ‘গজওয়াতুল হিন্দ’। এসব বইয়ে আইমান আল-জাওয়াহিরি, আসেম ওমর, মোল্লা দাদুল্লাহ, ইউসুফ আল-উয়াইরি ও আনওয়ার আল-আওলাকির মতো আল-কায়দা নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্য ও মতাদর্শ প্রচার করা হয়েছে। অধিকাংশ বইয়ের অনুবাদ ও সম্পাদনার কাজ করেছেন আরিফ মাহমুদ।

পুলিশি তথ্যানুযায়ী, অতীতে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া অনেক প্রকাশনী মালিক ৫ই আগস্টের পর জামিনে বেরিয়ে আবারো জিহাদি বই ছাপানোর কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। আর-রিহাব পাবলিকেশন্সের স্বত্বাধিকারী মো. হাবিবুর রহমান শামীম আগে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নেতা জসীমুদ্দীন রাহমানীর বই প্রকাশের দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়া ইলমহাউস পাবলিকেশন্সের স্বত্বাধিকারী আসিফ আদনান ২০১৪ সালে ডিবি কর্তৃক আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তারা আল-কায়দা ও আইএস নেতাদের বই বাজারে ছাড়ছেন।

জঙ্গিবাদের অভিযোগে ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার হওয়া সিয়ান পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী আবু তাসমিয়া আহমদ রফিকও সাত মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। তার প্রকাশনায়ও জিহাদি বই বিক্রি হচ্ছে। এসব ছাড়াও খান প্রকাশনী, রুহামা পাবলিকেশন এবং সন্দীপন প্রকাশনীর বিরুদ্ধে উগ্রবাদী বই বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত। এই বিষয়ে তদন্তের জন্য সাইবার বিভাগের ডিসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিক্রি বেশি হওয়ায় প্রায় প্রতিটি স্টলেই এসব বই পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিষ্ঠানটি মহাখালী ডিওএইচএসে বসে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটি তৈরি করেন তাদেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠান ওয়াফি সলিউশন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে ওয়াফিলাইফের সাইট খুঁজে এমন কয়েকটি বই পাওয়া গেছে, যা অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়া জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের কাছে পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের নথিতে তাকে আল-কায়েদার কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার জন্য প্রচারণামূলক বার্তা প্রচারকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি ওসামা বিন লাদেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পরামর্শদাতা ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার লেখালেখি পরবর্তী জিহাদি আন্দোলনের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি একটি জিহাদি প্রচারণামূলক ওয়েবসাইটে বইটিকে ‘জঙ্গিবাদের উপর লিখিত দিক-নির্দেশনামূলক কিতাব’ বলা হয়।