শিলিগুড়িতে গণপিটুনি: দুই যুবকের মৃত্যু ও আহতদের খোঁজ

, বিশ্ব

শিলিগুড়িতে গণপিটুনি: দুই যুবকের মৃত্যু ও আহতদের খোঁজ

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির মাটিগাড়া-বাগডোগরা এলাকায় গরু পাচারের সন্দেহে এক বর্বরোচিত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার গভীর রাতে তারাবাড়ি এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি চারচাকা গাড়ি প্রবেশ করলে স্থানীয়দের একটি দল সেগুলোকে ঘিরে ফেলে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই জনতা যানবাহনগুলোতে হামলা চালায়। এই হামলায় উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা ও পিকআপ ভ্যান চালক শহিদ আখতারকে পিটিয়ে এবং পাথর দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। হামলার পর পিকআপ ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রাণভয়ে চারচাকা গাড়িটি ফেলে চার যুবক পালানোর চেষ্টা করলেও উন্মত্ত জনতা তাদের ধাওয়া করে বাগডোগরার ধিমাল বস্তি এলাকায় ধরে ফেলে। সেখানে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই ঘটনায় হরিয়ানার বাসিন্দা শাদ মহম্মদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ভুক্তভোগী দলের বাকি সদস্যদের মধ্যে একজন কোনোক্রমে দৌড়ে পালিয়ে পানিঘাটা থানায় আশ্রয় নিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষা করেন। তবে বর্তমানে আমির, আরিফ খান ও আক্রমসহ বেশ কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের এসিপি (ইস্ট) অনির্বাণ মজুমদার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের আশঙ্কা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের সাহসী করে তুলছে এবং অতীতেও এমন অনেক ঘটনায় অভিযুক্তরা পার পেয়ে গেছে।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। শুধু শিলিগুড়ি নয়, কলকাতার উপকণ্ঠে সোনারপুরেও পুরোনো শত্রুতার জেরে গোপাল হালদার নামের এক যুবককে গ্যারেজ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মাধ্যমে আইন নিজ হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে, যা বিচারব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

এই সার্বিক নৈরাজ্য ও বিচারহীনতার বাতাবরণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এক চরম অস্তিত্বসংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গুজব বা সন্দেহের বশে রাস্তায় সাধারণ মানুষের প্রাণ হারানোর মতো ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য এক বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের এই নগ্ন চিত্র গোটা অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে।