কেনিয়ায় টেলিভিশন ও ফ্রিজ রপ্তানি শুরু করবে ওয়ালটন

, বাংলাদেশ

কেনিয়ায় টেলিভিশন ও ফ্রিজ রপ্তানি শুরু করবে ওয়ালটন

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে এবার পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়াকে বেছে নিয়েছে ইলেকট্রনিকস জায়ান্ট ওয়ালটন। কোম্পানি–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কেনিয়ার বাজারে নিজেদের তৈরি টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ও ওয়াশিং মেশিন রপ্তানির জন্য দেশটির স্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্প্রতি সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়ালটন, যার লক্ষ্য আগামী বছরের প্রথমার্ধের মধ্যে কেনিয়ার গ্রাহকদের কাছে বাংলাদেশি পণ্য পৌঁছে দেওয়া। তাতে রপ্তানির ভালো সম্ভাবনা দেখতে পায় ওয়ালটন। সেই লক্ষ্যে আমরা নতুন নতুন দেশে পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।

প্রাথমিকভাবে কেনিয়ার বাজারে ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৯ সাল নাগাদ এই রপ্তানি আয় ৫০ লাখ ডলারে উন্নীত করার রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কোম্পানি সচিব রফিকুল ইসলাম জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের ২০০টি দেশে তাদের পণ্য রপ্তানির যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, কেনিয়ার বাজারে প্রবেশ তারই একটি ধারাবাহিক অংশ।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানি শুরু করে ওয়ালটন। বর্তমানে বিশ্বের ৬৪টি দেশে তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ওয়ালটনের রপ্তানিতে ৬৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত পাঁচ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৮ লাখ ইউনিট ইলেকট্রিক্যাল ও গৃহস্থালি পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়েছে। কেবল সর্বশেষ অর্থবছরেই ১ লাখ ২২ হাজার ইউনিটের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার মধ্যে ৭৫ হাজারেরও বেশি ছিল রেফ্রিজারেটর। এছাড়াও কম্প্রেসর, টেলিভিশন ও এয়ার কন্ডিশনারের মতো ইলেকট্রনিকস পণ্য তাদের রপ্তানি তালিকার বড় অংশজুড়ে রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে শ্রীলঙ্কার বাজারে প্রথমবারের মতো লিফট রপ্তানি শুরু করার মতো নতুন নতুন মাইলফলক স্পর্শ করছে ওয়ালটন। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে তারা নিয়মিত বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ২০০ দেশে ওয়ালটনের পণ্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের এই শীর্ষ ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।