দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল কোচ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: কেএফএ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান

, খেলা

দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল কোচ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: কেএফএ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হং মিয়াং-বোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করেছে সিউল পুলিশ। মূলত ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কোচ নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জব্দ করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, হং মিয়াং-বো এবং তার পূর্বসূরি জার্গেন ক্লিন্সম্যানের নিয়োগের ক্ষেত্রে কেএফএ তাদের নিজস্ব নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। যদিও সেই সময় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে বর্তমান তদন্তে পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনৈতিক বা বেআইনি হস্তক্ষেপ ছিল কি না।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংসদীয় শুনানিতে হং মিয়াং-বো তার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তবে দলের সাম্প্রতিক হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং বিশ্বকাপ থেকে দ্রুত বিদায়ের দায়ভার তিনি নিজের কাঁধে নিয়েছেন। এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত আইনি তদন্তের পর্যায়ে গড়িয়েছে।

তদন্তের এই পর্যায়ে কেএফএ কিংবা সংশ্লিষ্ট ফুটবল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ তাদের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা এই প্রশ্ন এখন দেশটির ক্রীড়া মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, হং মিয়াং-বো এবং সাবেক কোচ জার্গেন ক্লিন্সম্যানের নিয়োগের ক্ষেত্রে কেএফএ নিজস্ব নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি।