রেফারিকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে নিষিদ্ধ মিসর কোচ ও ফুটবলার

, খেলা

রেফারিকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে নিষিদ্ধ মিসর কোচ ও ফুটবলার

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে পরাজয়ের ম্যাচে রেফারির কঠোর সমালোচনা করায় বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছেন মিসর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান, দলটির পরিচালক ইব্রাহিম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এই তিনজনকে নিষিদ্ধ করেছে। সোমবার মিসর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৬০ বছর বয়সী কোচ হোসাম হাসান এবং দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসান প্রত্যেকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকোর ওপর পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে দলের বিদায়ের পেছনে রেফারির সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছিলেন হোসাম। অন্যদিকে, ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রেফারিকে ‘জালিম’ সম্বোধন করে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন জিকো। ৬০ বছর বয়সী হোসাম শাস্তি পেয়েছেন রেফারিংয়ের ভুলকে দায়ী করার কারণে।

ম্যাচটিতে মিসর দলের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছিল। খেলার শেষদিকে স্কোর ২-২ সমতায় থাকা অবস্থায় মিসরের খেলোয়াড়েরা পেনাল্টির আবেদন জানিয়েছিলেন, তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি। এছাড়া আক্রমণভাগের খেলোয়াড় জিকোর একটি গোলও ফাউলের অজুহাতে বাতিল করা হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনার প্রেক্ষাপটে ফিফার রেফারি প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা ম্যাচ পরিচালনার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ম্যাচ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এ ধরনের অভিযোগ আনা হলে তা রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্য গুরুতর নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। গোলের আগের আক্রমণে ফাউলের কারণে সেটি বাতিল করা হয়।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার কারণে নভেম্বরে আফ্রিকান নেশনস কাপের বাছাইপর্বে মালাউইর বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে কোচ হোসাম ও পরিচালক ইব্রাহিম হাসান দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন না। আগামী মার্চের আন্তর্জাতিক উইন্ডোর প্রথম ম্যাচেও তাদের ডাগআউটে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অন্যদিকে ফরোয়ার্ড জিকো আগামী জুন মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকবেন। ইএফএ জানিয়েছে, তারা ফিফার কাছ থেকে এই শাস্তির বিস্তারিত কারণ জানতে চেয়েছে এবং আইনি পরামর্শ নিয়ে আপিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে তারা আইনি বিকল্পগুলো যাচাই করবে।