পা ফুলে যাওয়া কি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ?

, স্বাস্থ

পা ফুলে যাওয়া কি গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ?

দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বা পা ঝুলিয়ে বসে থাকার ফলে পা ফুলে যেতে পারে, যা সাধারণত বিশ্রাম নিলে সেরে যায়। তবে বিশ্রামের পরেও যদি পা ফোলা থাকে, তবে সেটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইডিমা’ বলা হয়। মানবদেহের টিস্যুতে অতিরিক্ত পানি জমে গেলে ইডিমা দেখা দেয়, যা অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে দুই পা একসাথে ফুলে যাওয়া এবং চাপের ফলে গর্তের মতো সৃষ্টি হওয়া ইডিমার ক্ষেত্রে বিভিন্ন শারীরিক কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কিংবা পা ঝুলিয়ে রাখলে দুটো পা ফুলে যেতে পারে,বিশ্রাম নিলে ফোলা কমে যায়। দুটো পা যখন একসাথে ফুলে যায় এবং আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে যদি গর্ত হয়ে যায়,তাহলে নিচের রোগ গুলোর কথা চিন্তা করতে হবে। ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া- উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ অ্যমলোডিপিন, ব্যথার ওষুধ,স্ট্যারয়েড, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ইত্যাদি কারন হতে পারে। 1. কিডনি রোগের কারণে পা ফোলা – প্রথমে মুখ ফুলে যায় তারপর শরীরে ফুলে- নেফ্রাইটিস রোগ প্রস্রাবের রং ঘন শর্ষের তেলের মতো, কম প্রস্রাব ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। 3. এসব রোগীর রাতে বেশি বেশি প্রস্রাব, বমি বমি লাগা, খাবারে অরুচি দেখা দেয়। হার্ট ফেইলুর – উচ্চ রক্ত চাপ, হার্টের রক্ত চলাচলের ব্যাঘাত, হৃদযন্ত্রের ভাল্বের সমস্যা হলে, হার্টের মাংসপেশি দুর্বল হলে -হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কমে যায় ফলে পায়ে, পেটে, বুকে পানি আসে। 4. লিভারের অসূখ — লিভার সিরোসিস হলে প্রথমে পেটে ও পরে পায়ে ও বুকে পানি জমে। 5. হেপাটাইটিস ভাইরাস বি ও সি, অতিরিক্ত মদ্যপান, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে লিভার সিরোসিস হয়। অপুষ্টি – পরিমিত খাবার না খেলে, হজম না হলে, খাদ্য নালী থেকে আমিষ বের হয়ে যায় রক্তে এলবুমিন কমে যায় ফলে শরীরে পানি জমে। 6.

পা ফোলা সমস্যার প্রধান কারণসমূহ

  1. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ যেমন অ্যামলোডিপিন, ব্যথানাশক ওষুধ, স্টেরয়েড এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ব্যবহারের ফলে পা ফুলতে পারে।
  2. অন্তঃসত্ত্বা অবস্থা: গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে পা ফোলা স্বাভাবিক হলেও এ সময় উচ্চ রক্তচাপ ও প্রস্রাবে অ্যালবুমিন পরীক্ষা করা জরুরি।
  3. কিডনি রোগ: নেফ্রাইটিস বা নেফ্রোটিক সিনড্রোমের মতো সমস্যায় প্রথমে মুখ ও পরে শরীর ফুলে যায়। প্রস্রাবে ফেনা হওয়া, কম প্রস্রাব এবং উচ্চ রক্তচাপ এর লক্ষণ।
  4. হার্ট ফেইলুর: হৃদযন্ত্রের পাম্প করার ক্ষমতা কমে গেলে পায়ে, পেটে বা বুকে পানি জমে। এর সাথে বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
  5. লিভারের সমস্যা: লিভার সিরোসিসের ফলে পেটে পানি জমা এবং পরবর্তীতে পা ও বুকে ফোলাভাব দেখা দেয়। সাথে অরুচি ও রক্তবমির মতো উপসর্গ থাকতে পারে।
  6. অপুষ্টি: পরিমিত পুষ্টির অভাব বা প্রোটিন হজমে সমস্যা হলে রক্তে অ্যালবুমিন কমে গিয়ে শরীরে পানি জমে।
  7. হাইপোথাইরয়েডিজম: থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমলে মুখ ও পা ফোলা, দুর্বলতা ও শারীরিক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা দেয়।
  8. গভীর শিরার রক্ত জমাট বাঁধা (DVT): দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী রোগী বা বড় অস্ত্রোপচারের পর হঠাৎ ব্যথা ও পা শক্ত হয়ে ফুলে যাওয়া এর লক্ষণ।
  9. লসিকা নালীতে ব্লকেজ (লিম্ফ ইডিমা): লসিকা নালীতে বাধার কারণে পা ফুলে যেতে পারে।
  10. ত্বকের সংক্রমণ বা সেলুলাইটিস: আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যাওয়া ও গরম অনুভূত হওয়া সেলুলাইটিসের লক্ষণ।

রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি রক্তে ক্রিয়েটিনিন, অ্যালবুমিন, থাইরয়েড হরমোন, প্রস্রাব পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম ও ইকো কার্ডিওগ্রামের মতো পরীক্ষাগুলো করতে পারেন। অন্তঃসত্ত্বা নারী তৃতীয় ধাপে- শেষ তিন মাস পা ফোলা খুবই স্বাভাবিক– তবে এক্ষেত্রে ব্লাড প্রেসার ও প্রস্রাবে এলবুমিন পরীক্ষা করা জরুরী। 2.

পা ফোলা নিরাময়ে পরামর্শ

  1. শোয়ার সময় পায়ের নিচে বালিশ ব্যবহার করুন।
  2. খাদ্যতালিকায় পানি ও লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  3. অতিরিক্ত ওজনের ক্ষেত্রে সুষম খাদ্য ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  4. অল্প পা ফোলা হলে চিকিৎসকের পরামর্শে মূত্র-বর্ধক (ডাইউরেটিকস) ওষুধ সেবন করুন।
  5. লিভার, কিডনি বা হার্টের সমস্যার ক্ষেত্রে ডাইউরেটিকসের মাত্রা বাড়িয়ে পানি ও সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
  6. হাইপোথাইরয়েডের সমস্যায় হরমোন প্রতিস্থাপন করতে হয়।
  7. গভীর শিরার ব্লকেজে অ্যান্টি-কোয়াগুল্যান্ট ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
  8. ত্বকের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ জরুরি।

তথ্যসূত্র: অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. মূসা, মেডিসিন বিভাগ। চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা। হটলাইন: ১০৬৭২।

চাকরির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া- উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ অ্যমলোডিপিন, ব্যথার ওষুধ,স্ট্যারয়েড, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ইত্যাদি কারন হতে পারে।
  • অন্তঃসত্ত্বা নারী তৃতীয় ধাপে- শেষ তিন মাস পা ফোলা খুবই স্বাভাবিক– তবে এক্ষেত্রে ব্লাড প্রেসার ও প্রস্রাবে এলবুমিন পরীক্ষা করা জরুরী।