বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডের বৈঠকের দিকে

, ব্যাংক

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডের বৈঠকের দিকে

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির টেকসই চাপের মুখে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৯ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ১২০ দশমিক ৪৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে। একই সময়ে ডিসেম্বর মাসের সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৯ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অ্যাকটিভট্রেডসের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা জানান, উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে মূল্যস্ফীতির যে স্থায়ী চাপ রয়েছে, তা ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়।

বিনিয়োগকারীদের এখন মূল দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের দিকে। ইভানজেলিস্তার মতে, অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বরের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেড কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মুদ্রানীতি কঠোর করার তাড়াহুড়া না থাকলেও, সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের বিনিয়োগ আকর্ষণ কমে যায়, কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন সুদ পাওয়া যায় এমন সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ধারণা পেতে আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিই রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন বিনিয়োগকারীরা। ফেডের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার বিষয়ে তাড়াহুড়োর ইঙ্গিত না থাকায় ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা কিছুটা কমেছে। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের ক্ষেত্রে ফেডের পছন্দের এই সূচকের তথ্য থেকেও সুদের হারসংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের বিষয়ে ধারণা পেতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে জ্বালানি বাজারে উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে। সৌদি আরবের অবকাঠামো ও উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে হামলার ঘটনায় ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। এই অস্থিরতা বাজার ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এর বাইরে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা জানিয়েছেন, দেশটিতে অন্তর্নিহিত মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে জাপানের সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। এদিন স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৯৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১১০ দশমিক ০৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজারের সামগ্রিক অস্থিরতা এবং আগামী নীতিনির্ধারণী বৈঠকের দিকে তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা তাদের কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছেন।