উন্নত বেতনে চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচার হওয়া ছয় তরুণীকে মহারাষ্ট্রের পুনে শহর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে পুনের বুধওয়ার পেথ এলাকার বেশ কয়েকটি যৌনপল্লীতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের মুক্ত করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই পুলিশি অভিযানে পাচার চক্রের ভয়াবহ কর্মকাণ্ডের বিষয়টি পুনরায় সামনে এলো। চাকরির প্রলোভনে ভারতে পাচার, যৌনপল্লি থেকে উদ্ধার ৬ বাংলাদেশি নারী।
উদ্ধার হওয়া নারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, প্রায় চার মাস আগে তাদের বৈধ বা অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে তাদের পুনের বিভিন্ন যৌনপল্লীর संचालকদের কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। কিন্তু ভারতে পৌঁছানোর পর তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো কাজ দেওয়া হয়নি।
পুলিশের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া ছয় তরুণীর কারোর কাছেই কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ছিল না। চাকরির ফাঁদে ফেলে তাদের সীমান্ত পার করার পর পাচারকারীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় লিপ্ত হতে বাধ্য করেছিল। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় ফারাসখানা থানায় মানবপাচার ও জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় বাধ্য করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে জোর করে দেহ ব্যবসায় নামানো হয় বলে অভিযোগ। মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবপাচারকারী চক্রের চার সদস্যকে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি দুজন অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক থাকায় পুলিশ তাদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু।
উল্লেখ্য যে, পুনের বুধওয়ার পেথ এলাকাটি অনেক আগে থেকেই নারী পাচারকারীদের একটি প্রধান গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ থেকে পাচার করে আনা নারীদের এই এলাকায় নিয়ে আসার ঘটনা আগে বেশ কয়েকবার ঘটেছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই এলাকা থেকে চার বাংলাদেশি নারীকে উদ্ধার করেছিল পুনে সিটি পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ত্রুটির ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন। ককপিটের ত্রুটি সারিয়ে ঢাকার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট।
এই ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পাচারকারী চক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙতে তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। অবৈধ সীমান্ত পারাপার এবং চাকরির প্রলোভনে এ ধরনের পাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকৃত নারীদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
ভারতে বাংলাদেশিদের পাচারের এই ঘটনাটি সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানবপাচার প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত শেষে চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।



