যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দল হারলে যা ঘটবে

, বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দল হারলে যা ঘটবে

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (প্রতিনিধি পরিষদ) কিংবা সিনেট—কংগ্রেসের যেকোনো কক্ষের নিয়ন্ত্রণ যদি ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের হাতে নিতে পারেন, তবে মার্কিন রাজনীতির সমীকরণ আমূল বদলে যাবে। এমন সাফল্যের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্বাহী ও আইনি ক্ষমতা পাবেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। সরকারি ব্যয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তৈরি হবে নতুন বাধা। ট্রাম্প যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন, সে বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নিতে পারেন তাঁরা। নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখাও সহজ হবে না।

ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ঘোষণা ও বাইডেন-পরবর্তী রাজনীতি

ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে গত সপ্তাহে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘তখন যা ঘটবে, তা হলো আমি সবকিছুতে ভেটো দেব।’ ফলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটে জয়ী হলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কংগ্রেসের এক মুখোমুখি সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়া স্পষ্ট।

ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার সংকট ও মূল্যস্ফীতির কারণেই মূলত ভোটাররা একসময় ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। এবার সেই একই অর্থনৈতিক অচলাবস্থাকে হাতিয়ার করে রিপাবলিকানদের কোনঠাসা করতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, তাঁদের দল পাঁচটি খাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজতে বিশেষ কর্মদল গঠন করছে। এর লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো।

বাজেট অনুমোদন ও ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বাধা

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত হলে করদাতাদের অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, সেটিই হবে তাঁদের হাতে থাকা সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও আইনি ক্ষমতার জায়গা। অর্থাৎ, ট্রাম্পকে নির্দিষ্ট কোনো আর্থিক বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার একমাত্র উপায় হলো বাজেট বা সরকারি ব্যয়ের বিলের সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেওয়া। ডেমোক্র্যাটদের বাধা এড়াতে রিপাবলিকানরা আগে থেকেই ট্রাম্পের বিতর্কিত অভিবাসননীতির অর্থায়ন নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। এ জন্য ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি—ডিএইচএস) ব্যয় মেটানোর অর্থ অনুমোদন করেছেন তাঁরা।

আরেকটি বড় বিরোধের বিষয় হতে পারে মার্কিন সরকারের জাতীয় ঋণের সর্বোচ্চ সীমা। ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ পাসের সময় রিপাবলিকানরা এ ঋণসীমা সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে আবার ঋণসীমা বৃদ্ধি করতে হবে। কিন্তু জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় রিপাবলিকান দলের অনেক নেতার কাছেও এটি বড় অর্থনৈতিক বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে ঋণসীমা বাড়ানোর অনুমোদন নিতে ডেমোক্র্যাটদের শর্ত মানতে বাধ্য হতে পারেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটনের উন্নয়ন প্রকল্প ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট

ট্রাম্পের ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন বিতর্কিত উন্নয়ন বা সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ আটকে দিতে বা পুরোপুরি বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটরা তাঁদের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন। ট্রাম্প অবশ্য এসব প্রকল্পকে রাজধানীর সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে আসছেন। তবে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এ থাকা বড় ধরনের কিছু ব্যয়সংকোচন বাতিল বা সংশোধন করতে ডেমোক্র্যাটদের বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁদের মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোও কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির কঠোর নজরদারির মুখে পড়বে। কারণ, জিওপির (গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি বা রিপাবলিকান পার্টি) ভোট ছাড়া এককভাবে বিল অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ওই কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে না।

‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’–এর আওতায় স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি প্রিমিয়াম ভর্তুকি চালু রাখার বিষয়টি গত দুই বছর ধরে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই ভর্তুকি বাড়ানোর দাবিতে গত বছর তাঁরা রেকর্ড ৪৩ দিন মার্কিন সরকার অচল করে রেখেছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই বাড়তি ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চলতি বছর সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম বা কিস্তির পরিমাণ ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। এতে বিমার সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন বহু আমেরিকান।

তবে শুধু এ ভর্তুকি চালু রাখতেই প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসেব অনুযায়ী, ভর্তুকির মেয়াদ স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি করতে পরবর্তী ১০ বছরে অন্তত ৩৫০ বিলিয়ন (৩৫ হাজার কোটি) ডলার ব্যয় হতে পারে। রিপাবলিকানদের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’-এ যে ঐতিহাসিক ব্যয়সংকোচন করা হয়েছে, অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা। আর সে জন্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে—অন্তত সিনেটে তো বটেই।

প্রভাবশালীদের ওপর তদন্ত ও কূটনৈতিক নীতি পরীক্ষা

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে মেডিকেইডে ব্যয়সংকোচন কার্যকর হওয়ার সময় নিষ্ক্রিয় থাকবেন না। এসব বিতর্কিত বিধান কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা তদারকি ও তদন্ত করতে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠন করবেন তাঁরা। পাশাপাশি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ (এমএফএন) চুক্তি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য ও ফাইল জানতে চাওয়া হতে পারে। যদিও নির্বাচনী প্রচারে কিছু প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ‘সবার জন্য মেডিকেয়ার’ চালুর পক্ষে কথা বলেছেন, কিন্তু বাস্তবে সেটি বাস্তবায়ন করা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক কঠিন।

কংগ্রেসের পূর্ণ কিংবা আংশিক নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর শুরুতেই ট্রাম্পের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ককে নিয়ে বড় ধরনের তদন্ত শুরু করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে তাঁর ভূমিকা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া কংগ্রেসের আইনে প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি সরকারি সংস্থা কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ট্রাম্প যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেগুলোও প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের কঠোর নজরদারি ও আইনি বাধার মুখোমুখি হবে। ডেমোক্র্যাটরা যেসব পদক্ষেপকে সত্যিই আইনে রূপান্তর করতে চান, সেগুলো পাস করানোর জন্য সম্ভবত বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের মতো ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ এমন সব বিলের অংশ করতে হবে।

প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যদের অর্থ উপার্জনের কর্মকাণ্ডও ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প পরিবারের কোটি কোটি ডলারের চুক্তি ও ব্যবসা নিয়ে তদন্ত চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মনোভাব, দেশজুড়ে ব্যাপক হারে অভিবাসীদের বহিষ্কার অভিযান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশে দেশে শুল্ক আরোপের মতো ট্রাম্পের বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতিও তদারকির আওতায় আসবে। ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে ট্রাম্প নিজেই ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি আয় করেছেন।

আইনি প্রক্রিয়া ও ট্রাম্প প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ

নতুন সরকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিনের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্য শুনানি ডাকতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের অনেক আইনপ্রণেতার নীতিগত সমর্থন থাকতে পারে। কিন্তু ট্রাম্পকে এই যুদ্ধ পরিচালনা বা সেনা মোতায়েন বন্ধ করতে আইনিভাবে বাধ্য করা বেশ কঠিন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে যেকোনো বৈদেশিক সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু ট্রাম্প ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ার এই ধারাসমূহ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়া কংগ্রেসে কোনো ইস্যুতে ট্রাম্পের দেওয়া বিশেষ ভেটো বাতিল করতে প্রয়োজন হবে অন্তত ৬৭টি ভোট। ফলে ট্রাম্পকে আটকাতে ডেমোক্র্যাটদের রিপাবলিকান দলের প্রাক-বিরোধী বা অসন্তুষ্ট আইনপ্রণেতাদের সহযোগিতার ওপরই নির্ভর করতে হবে। নির্বাচনে ফল প্রকাশের পর আগামী জানুয়ারিতে নতুন আইনপ্রণেতারা দায়িত্ব নেওয়ার মাঝের সময়টিতে ট্রাম্প প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাটদের লড়াই নতুন মাত্রা পাবে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষা খাতের বাজেট সংকট

যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা বিধান ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর ট্রাম্প সরকারের নতুন বাজেটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশনের সরকারি সম্পর্কবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ফ্যানস্মিথ জানিয়েছেন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণের পরিমাণ কমানো এবং অনেক ঋণগ্রহীতার জন্য ঋণ শোধের সুযোগ-সুবিধা কমানোর ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত নীতিগুলো বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে শিক্ষা ঋণ মওকুফের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে।

ফুড রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন সেন্টার এক সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে প্রকাশ করেছে যে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিতর্কিত বিলে স্বাক্ষর করার পর থেকে দেশের ৫৫ লাখের বেশি মানুষ জরুরি খাদ্যসহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটরা দেশের ফার্ম বিলের অংশ হিসেবে নিম্ন আয়ের মানুষদের খাদ্যসহায়তা কর্তনের বিধানটির কার্যকরের সময় দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় না পেলে এসব বিধান পরিবর্তন করা অসম্ভব হবে।

আবাসন খাত ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রাস্ট ফান্ড ট্র্যাজেডি

দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা এবং সামগ্রিক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও ডেমোক্র্যাটরা সরব হয়েছেন। এমনকি নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গেও সম্প্রতি আবাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু অর্থায়নের জটিলতায় এই প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।

সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা ফান্ড। বর্তমান ধারায় সরকারি ব্যয়সংকোচন ও ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকেই যুক্তরাষ্ট্রের এই দুটি বড় ট্রাস্ট ফান্ডের জমানো অর্থ পুরোপুরি শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের হাতে প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ গেলে বাজেট বরাদ্দ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে তারা ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইবেন। আর এই রাজনৈতিক যুদ্ধই নির্ধারিত করবে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী দিনের অর্থনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক নীতি। এগুলো হলো আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা, গ্যাস ও জ্বালানি পরিষেবা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্য।