কোনো জাদুকরী ডেলিভারি বা জটিল কোনো কৌশলের আশ্রয় নেননি হাসান মাহমুদ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পেছনে ছিল কেবল নিখুঁত লাইন, সঠিক লেন্থ এবং অবিচল ধারাবাহিকতা। এই সহজ অথচ কার্যকর পরিকল্পনায় ভর করেই তিনি ক্যারিয়ারসেরা বোলিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়।
প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে হাসান মাহমুদ ১৭ ওভার বল করে ৫৫ রানের বিনিময়ে ৬টি উইকেট শিকার করেন। তার এই দুর্দান্ত স্পেলের সামনে দাঁড়াতে না পেরে মাত্র ৫৩ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ২৬ বছর বয়সি এই পেসারের ৬/৫৫ বোলিং ফিগার টেস্ট ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ফাস্ট বোলারের তৃতীয় সেরা সাফল্য। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে তিনি নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
পুরো স্পেলজুড়ে হাসানের বোলিংয়ে ছিল পরিকল্পনার নিখুঁত বাস্তবায়ন। তিনি বারবার অফ-স্টাম্পের আশপাশে বল রেখে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের ভুল করতে প্ররোচিত করেছেন। একের পর এক ডট বলের চাপে পড়ে ব্যাটাররা উইকেট বিলিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তার প্রথম শিকার ছিলেন জেক ওয়েদারাল্ড, যিনি অফ-স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। এরপর ট্র্যাভিস হেডকে ভেতরে ঢোকা লেন্থ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন হাসান। প্যাট কামিন্সও একই চাপে পড়ে অফ-স্টাম্পের বাইরের বল কাট করতে গিয়ে উইকেটকিপারের গ্লাভসবন্দি হন।
মিচেল স্টার্কের ক্ষেত্রেও হাসান তার কৌশলে অটল ছিলেন। শরীর থেকে দূরে অ্যাঙ্গেল তৈরি করে ফুলার লেন্থের বল করে তিনি স্টার্কের ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ নিতে বাধ্য করেন। ইনিংসের শেষ দিকে স্টিভ স্মিথ এবং ন্যাথান লায়নকেও একই কৌশলে আউট করেন তিনি। ছোট লেন্থের বলে আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে স্মিথ ক্যাচ তুলে দেন, আর লায়নও একইভাবে টপ-এজ হয়ে মিডউইকেটে ধরা পড়েন।
মূলত ছয়টি উইকেট এলেও হাসানের বোলিংয়ের মূলমন্ত্র ছিল অভিন্ন—সঠিক লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করা। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের আগের সেরা বোলিং রেকর্ডটিও ভেঙে দিয়েছেন। তার এই অবিস্মরণীয় বোলিং নৈপুণ্য ডারউইন টেস্টের প্রথম দিনেই বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসিয়েছে।



