নীলফামারীতে সাপে কাটা যুবককে ঝাড়ফুঁকে বাঁচানোর চেষ্টা, এলাকায় চাঞ্চল্য

, বাংলাদেশ

নীলফামারীতে সাপে কাটা যুবককে ঝাড়ফুঁকে বাঁচানোর চেষ্টা, এলাকায় চাঞ্চল্য

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সাপের কামড়ে মৃত এক যুবককে তন্ত্রমন্ত্র ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে জীবিত করার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। বড়ভিটা ইউনিয়নের জুরাবান্ধা মালিপাড়া গ্রামের বিপুল রায়ের ছেলে বিজয় রায় (২০) সাপের দংশনে প্রাণ হারান। শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ বাড়িতে আনা হলে স্বজনরা ওঝা ডেকে দীর্ঘ দুই ঘণ্টাব্যাপী ঝাড়ফুঁক করান। স্থানীয়দের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, লাশের শরীর থেকে বিষ নামাতে সাপ এসেছে। এই অন্ধবিশ্বাসে শত শত মানুষ ভিড় জমায় ঘটনাস্থলে।

নিহত বিজয়ের বাবা বিপুল রায় জানান, চিকিৎসকরা বিজয়কে মৃত ঘোষণা করার পরও তাদের মনে হয়েছিল ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে হয়তো সে প্রাণ ফিরে পাবে। সেই আশা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয়রা জানান, বিজয় সম্প্রতি মনসার গানের মঞ্চে সাপ নিয়ে খেলা দেখিয়েছিলেন। খেলা শেষে সাপটি বাক্সে রাখার সময় তাকে কামড় দিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার ঝাড়ফুঁকের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তার দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা উৎসুক জনতা জানান, সিনেমা বা টেলিভিশনের পর্দায় মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁকে জীবিত হতে দেখে তারা বিষয়টি নিজ চোখে দেখতে এসেছিলেন। তবে বাস্তব যে ভিন্ন, তা তারা ঘটনাস্থলে এসে উপলব্ধি করেছেন।

একই দিনে কিশোরগঞ্জের বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল বৈদ্যপাড়া এলাকায় আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আব্দুর রহিমের ১০ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া মেয়ে রোহানা আক্তার রুনা ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ের শিকার হয়। তীব্র যন্ত্রণায় শিশুটি চিৎকার করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, সচেতনতার অভাবেই সাপে কাটা মৃত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক দিয়ে বাঁচানোর মতো অবৈজ্ঞানিক চেষ্টা করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর গফুর পৃথক দুটি মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সাপের কামড়ে দুইজনের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তন্ত্রমন্ত্রের ওপর মানুষের এই অন্ধবিশ্বাস দূর করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর গফুর জানান, সাপের কামড়ে পৃথক স্থানে ২ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।

তাদের ধারণা, টিভির পর্দার মতো বাস্তবেও সর্প দংশনে মৃত্যু ব্যক্তি জীবিত হয়ে উঠবে।

শুক্রবার দুপুরে ঝাড়ফুঁকে কাজ না হওয়ায় পরে দাহ কার্য সম্পন্ন করা হয়।

টিভির পর্দার অভিনয় আর বাস্তব এক নয়।

এ ধারণাটি সর্ম্পকে সকলকে সচেতন করা উচিত।