নাটোরে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ, বদলি বাগাতিপাড়ার ইউএনও

, বাংলাদেশ

নাটোরে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ, বদলি বাগাতিপাড়ার ইউএনও

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জেলা প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করার পর তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উপসচিব মোছাঃ সুমনী আক্তারকে। বুধবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে ২৮তম বিসিএসের এই কর্মকর্তাকে নাটোরের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

একই প্রজ্ঞাপনে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাককে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া একই রাতে জারি করা অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. ইউসুফ আলীকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে একই ঘটনার জেরে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) বদলি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে নাটোরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিদায়ী জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকে তার কার্যালয়ে গিয়ে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান। বিকেলে তিনি ঢাকার উদ্দেশে নাটোর ত্যাগ করেন এবং একই দিন নতুন জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুমনী আক্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে এই রদবদলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

অনেকের অভিযোগ, সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। তবে বিদায়ী জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন তার প্রত্যাহারকে সরকারের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই বদলিকে অন্য কোনোভাবে দেখার অবকাশ নেই।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষের জেরে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে একই সময়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় সাতজন সাংবাদিককেও লাঞ্ছিত করা হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং লালপুর উপজেলা ছাত্রদল তাদের তিন কর্মীকে বহিষ্কার করে।

ঘটনার পর ১৭ আগস্ট সোমবার লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং পরদিন মঙ্গলবার বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী বাদী হয়ে নিজ নিজ থানায় এজাহার দায়ের করেন। উভয় এজাহারেই বিএনপি ও ছাত্রদলের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানেন না।