ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের মাধ্যমেই ইসলামের চূড়ান্ত বিজয় সুনিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য কেবল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা নয়, বরং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। শুক্রবার সকালে রাজধানীর সাভারে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা আয়োজিত দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ের আমির, সভাপতি ও সেক্রেটারিদের নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন।
সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ পবিত্র কোরআনের সূরা আলে ইমরানের ১৫৯ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ নবী করিম (সা.)-কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর আল্লাহর ওপর ভরসা করার শিক্ষা দিয়েছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই পরামর্শমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভুলত্রুটি কমে আসে এবং কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
দুর্নীতি, ঘুষ, অনিয়ম এবং নৈতিক অবক্ষয়কে ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতির ফল হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, মদ্যপান, অবৈধ বাণিজ্য এবং ঘুষের বিনিময়ে বিচারিক রায় প্রভাবিত করার মতো ঘটনাগুলো সমাজে চরম অস্থিরতা তৈরি করে। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি ব্যক্তির চরিত্র ও নৈতিকতার উন্নয়নকে অপরিহার্য বলে অভিহিত করেন। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি বা সমস্যা সবসময় নেতিবাচক নয়; অনেক সময় এগুলো মানুষের জন্য শিক্ষা ও পরীক্ষার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তাই প্রতিবন্ধকতা দেখে বিচলিত না হয়ে তা মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মসিউল আলম বক্তব্য রাখেন। এছাড়া দারস পেশ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ। কুরআন শিক্ষার ওপর সেশন পরিচালনা করেন ড. মাওলানা মো. আব্দুল জব্বার ও জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মো. শাহীনুর ইসলাম। অনুষ্ঠানে জেলা কর্মপরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, তবে ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে তা অতিক্রম করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।



