ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের নৌ-অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

, বিশ্ব

ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের নৌ-অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বজায় রাখার সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। পানামা সফরকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন নৌবাহিনী পালাক্রমে রণতরী মোতায়েনের মাধ্যমে ইরানকে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পুরোপুরি প্রস্তুত। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরাসরি যুদ্ধের বদলে অর্থনৈতিক অবরোধকেই ইরান দমনের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা আসতে পারে, যা দেশটির ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। এদিকে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘অ্যাডনক’-এর দুটি জাহাজে হামলার ঘটনায় আবুধাবি সরাসরি ইরানকে দায়ী করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এর জবাবে তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বাজেয়াপ্ত তহবিল ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত এই কৌশলগত জলপথের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে চলতি বছর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪৩ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৪ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। তীব্র জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও তারা সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের নীতিতেই অটল রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার কবলে পড়তে পারে।