ইন্দোনেশিয়ার ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশু নির্যাতনের বিচার শুরু, ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ

, বিশ্ব

ইন্দোনেশিয়ার ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশু নির্যাতনের বিচার শুরু, ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ

ইন্দোনেশিয়ার যোগ্যাকার্তা শহরের একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে শিশুদের নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে ১১ কর্মীর বিচার শুরু হয়েছে। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার স্থানীয় আদালতে এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। শিশুদের নিরাপদে রাখার কথা যেখানে, সেই ডে-কেয়ারেই নির্যাতনের অভিযোগ ইন্দোনেশিয়ায় গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি নজরদারি কঠোর করার দাবি উঠেছে।

মামলাটি লিটল আরেশা ডে-কেয়ার কেন্দ্রকে ঘিরে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই থেকে ছয় বছর বয়সী বেশ কয়েকজন শিশুকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পায়। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন শিশুকে দরজার সঙ্গেও বেঁধে রাখা হয়েছিল। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, শিশুদের শাস্তি দেওয়ার নামে তাদের খাবার থেকে বঞ্চিত করা, পানিতে মাথা ডুবিয়ে দেওয়া এবং পা বেঁধে রাখার মতো অমানবিক নির্যাতন করা হতো। এসব ঘটনার কারণে অনেক শিশু মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা ও দীর্ঘস্থায়ী ভয়ের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

পুলিশের তদন্তে এ ঘটনায় মোট ৩২ জনকে সন্দেহভাজন বা আসামি করা হয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে পুলিশ জানিয়েছিল, নতুন করে আরও ১৪ জনকে আসামি করায় মোট সন্দেহভাজনের সংখ্যা ২৭-এ দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই সংখ্যা আরও বেড়ে ৩২ হয়েছে। মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডে-কেয়ার কেন্দ্রটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান দিয়াহ কুসুমাস্তুতির বিরুদ্ধেও শিশু নির্যাতনে নির্দেশ দেওয়ার এবং লাইসেন্স ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার আইনে এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি ইন্দোনেশীয় রুপিয়া জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না। পুলিশের অভিযানের পর ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এখন আদালতের বিচার ও রায়ের পাশাপাশি দেশটির ডে-কেয়ার ব্যবস্থায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।