দীর্ঘ বিরতির পর জনসমক্ষে মেলানিয়া ট্রাম্প, জানালেন নিজের অবস্থান

, বিশ্ব

দীর্ঘ বিরতির পর জনসমক্ষে মেলানিয়া ট্রাম্প, জানালেন নিজের অবস্থান

দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময়ের নীরবতা ভেঙে অবশেষে জনসমক্ষে এলেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তাকে দেখা যায়। ফস্টার কেয়ার বা পালক পরিচর্যা উদ্যোগের প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মেলানিয়া উপস্থিত হয়ে বলেন, শুভ অপরাহ্ন। আমি শুনেছি আপনারা আমাকে মিস করেছেন, এই যে আমি এখানে। এরপর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার হাত ধরে তাকে বক্তৃতামঞ্চের দিকে এগিয়ে দেন এবং বক্তব্য শেষে তার পিঠে হাত রেখে সমর্থন জানান। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে মেলানিয়াকে আগের তুলনায় অনেক কম জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে।

মেলানিয়ার এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। সর্বশেষ গত ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে তাকে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল। এরপর চার মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিকতা, ২৪ জুলাই হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনার কিংবা ২৮ জুলাই সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়নি। ‘দ্য ডেইলি বিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠানের আগে চলতি বছরে মাত্র ৩৮ দিন জনসমক্ষে এসেছেন মেলানিয়া।

মেলানিয়ার অনুপস্থিতির মধ্যেই প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্পের সর্বব্যাপী উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী এই নির্বাহী সহকারীকে প্রায় সবসময়ই ডনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দেখা যাচ্ছে। এমনকি চলতি গ্রীষ্মে তুরস্কের ন্যাটো সম্মেলন থেকে ফেরার সময় ট্রাম্প যে সামরিক বিমানে ছিলেন, সেখানেও অল্প কয়েকজন সহযোগীর মধ্যে নাটালি হার্প উপস্থিত ছিলেন। সাবেক ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কের এই কর্মী হোয়াইট হাউসে যোগদানের পর এক বছরেরও বেশি সময় নিরাপত্তা ছাড়পত্র না নিয়ে কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ড নিয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ সম্প্রতি অভিযোগ করেন যে, ট্রাম্প রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে বিতর্কিত বলরুম নির্মাণ এবং নাটালির সঙ্গে ভ্রমণে বেশি আগ্রহী। ট্রাম্পের মিত্ররা অবশ্য হার্পের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হার্পকে নিয়মিত সংবাদ প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এনে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে ‘প্রিন্টার’ নামে ডাকা হয়। এছাড়া তিনি প্রেসিডেন্টকে ব্যক্তিগত ভক্তিমূলক চিঠিও সরবরাহ করেন। তবে ট্রাম্প ও হার্পকে ঘিরে চলমান এসব জল্পনা নিয়ে মেলানিয়া কোনো মন্তব্য করেননি।

অনুষ্ঠানে মেলানিয়া মূলত পালক পরিচর্যা থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের জন্য নতুন বৃত্তি কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমেরিকার সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক শক্তি হলো এর জনগণ। আগামী দিনের নেতারা আজ শ্রেণিকক্ষে বসে আছে, যাদের মধ্যে পালক পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা শিশুরাও রয়েছে। তাদের সক্ষমতা কোনো অংশেই কম নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের মন্তব্যকে ঘিরেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসে তার প্রকৃত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন আরও জোরালো হয়।