গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্বশুর মজিদ মোড়লকে (৭০) কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জামালপুর কলাপট্টি এলাকায় নিজের কলার দোকানে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নিহত মজিদ মোড়ল জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আলতু মোড়লের ছেলে। অভিযুক্ত জামাই মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মুজা সরকার (৩৫) উত্তর জামালপুর সরকারপাড়া এলাকার মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে। ঘটনার পরদিন শনিবার সকালে অভিযুক্ত মোজাম্মেল নিজেই কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার সহকারী উপপরিদর্শক শফিক।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো
- নিহত মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানাজ বেগমের সঙ্গে মোজাম্মেলের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক টানাপোড়েন চলছিল। মাদকাসক্ত মোজাম্মেল নিয়মিত স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে শাহানাজ একাধিকবার স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
- স্ত্রীকে নিপীড়নের বিষয়টি নিয়ে শ্বশুর মজিদ মোড়লের সঙ্গে মোজাম্মেলের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এরই জের ধরে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে মোজাম্মেল একটি ট্রলি ব্যাগে কুড়াল নিয়ে শ্বশুর মজিদের দোকানে উপস্থিত হন।
- দোকানে পৌঁছে ব্যাগ থেকে কুড়াল বের করে মজিদ মোড়লকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন মোজাম্মেল। গুরুতর আহত অবস্থায় মজিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মোজাম্মেল ঘটনাস্থলে ব্যাগটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা দ্রুত মজিদ মোড়লকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জিয়াউর রহমান জানান, মাথার পেছনে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল, তবে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: মাদক সেবন করে স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে শাহানাজ একাধিকবার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পিতার বাড়িতে চলে আসেন। চাকরির আরও তথ্য: সম্প্রতি তিনি সেখানেই অবস্থান করছিলেন।



