জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফর চলাকালীন স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে কুয়েতের স্থায়ী মিশনে দেশটির ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের এই মজবুত সম্পর্কের মূলে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য। সম্পর্কের এই ভিত্তি স্থাপনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, অতীতের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত ও গভীর হয়েছে, যা বর্তমান সময়েও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিতে বিদ্যমান সম্পর্ককে বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারপ্রধান। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শ্রমশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের মতো বিষয়গুলোতে দুই নেতা একমত হয়েছেন। এ সময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি উভয় পক্ষ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সমন্বয় বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।
বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বিনিয়োগ, জনশক্তি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশ উপকৃত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৈঠকে উভয় নেতা দুই দেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে সব ধরণের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।



