রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকার লড়াইয়ে রেকর্ড বইয়ে অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে। শেষ পর্যন্ত ১৯৯৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছিল। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলছে তিন বিশ্বকাজয়ী দল। দিন শেষে হাসি মুখে ফিরেছে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাজয়ী দল শ্রীলংকা।
ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক এদিন ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ১১৬ বলে করেন ২০২ রান।
তিনি মাত্র ১১৪ বলে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এর আগের রেকর্ডটি ছিল ভারতের শুভমান গিলের দখলে, যিনি ১১৭ বলে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। ব্রুকের ২০২ রানের ইনিংসে ছিল ২১টি চার ও ১০টি ছক্কা। এই ইনিংসের সুবাদে ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তিনি। সেই সঙ্গে ভেঙে দিলেন বেন স্টোকসের ১৮২ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড এবং গড়লেন পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড।
একই ম্যাচে জো রুট ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৮ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। এটি ছিল তার ১৯৭তম ওয়ানডে ম্যাচ। দলীয় সংগ্রহেও ইংল্যান্ড নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে; পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে কোনো দলের এটিই প্রথম চারশ ছাড়ানো ইনিংস। এর আগে পাকিস্তানের মাটিতে দলীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ৩৭৫ রান, যা ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে স্বাগতিকদের করা ছিল। ইংল্যান্ডের ৪২৯ রানও পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে কোনো দলের প্রথম ৪০০ পেরোনো সংগ্রহ। যেটি ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাকিস্তান করেছিল।
তবে পাহাড়সম রানের লক্ষ্য তাড়া করে শেষ হাসি হেসেছে শ্রীলংকা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার তালিকায় এটি দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। এর আগে তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল ৩২২ রানের। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৫ রান তাড়া করে জেতা দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ডটি এখনো সবার উপরে। এবারের ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে মোট ৮৫৯ রান করেছে, যা ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ম্যাচ। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সেই ম্যাচটি, যেখানে মোট ৮৭৩ রান হয়েছিল।
ম্যাচে ইংল্যান্ডের হারের অন্যতম কারণ ছিল তাদের বোলারদের চরম ব্যর্থতা। স্যাম কারান ৯ ওভার বল করে ১০৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন, যা ওয়ানডে ক্রিকেটে যেকোনো ইংলিশ বোলারের জন্য এক ইনিংসে সর্বোচ্চ খরচের রেকর্ড। কারান নিজেই নিজের পূর্বের রেকর্ড ভেঙেছেন; ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি ৯.৫ ওভারে ৯৮ রান দিয়েছিলেন। আজকের ম্যাচে তিনি ৩৮তম ওভারে ১৮, ৪৩তম ওভারে ২০, ৪৭তম ওভারে ১৯ এবং মাত্র ৩ ওভারের একটি স্পেলেই ৫৭ রান খরচ করেছেন। এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের পরাজয়ের মূল কারণ বাজে বোলিং। এই রেকর্ড গড়ার পথে স্যাম কারন নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যান।



