এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ফর্টিস এফসির। কুয়েতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আল কাদসিয়ার কাছে ৩-০ গোলে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের এফসি গোয়ার কাছে ২-১ ব্যবধানে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল তাদের। তবে শুক্রবার কুয়েতের হাওয়ালিতে মোহামেদ আল হামাদ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাজিকিস্তানের এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশি ক্লাবটি। এটি এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে বাংলাদেশের কোনো ক্লাবের ঐতিহাসিক প্রথম জয়। কিন্তু সেই ম্যাচকেই স্মরণীয় করে রাখল বাংলাদেশের ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ফর্টিসের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না। ১২ মিনিটে শেরজোদ মাখামাদিয়েভের গোলে এগিয়ে যায় রেগার-তাদাজ। তবে পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ফর্টিসের মিডফিল্ডার নরিকি আকাদাকে মারাত্মক ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তাজিক ক্লাবের ডিফেন্ডার তকাম সেভেরিন। এরপর থেকে প্রতিপক্ষকে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়। যদিও সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধে কোনো গোল করতে পারেনি ফর্টিস, ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় তাদের।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে পুরোপুরি বদলে যায় ফর্টিসের খেলার দৃশ্যপট। বদলি খেলোয়াড়দের সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড পা ওমর বাবুর নৈপুণ্যে দলটি একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে। ৬৭ মিনিটে পা ওমর বাবুর নিখুঁত পাস থেকে রাফায়েল টুডুর চমৎকার ব্যাকহিলে সমতায় ফেরে ফর্টিস। এই গোলটি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ।
ম্যাচের ৭১ মিনিটে ফর্টিসকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন শিয়ান কাওয়াসাকি। কর্নার থেকে আসা বলে নেপালি ডিফেন্ডার অনন্ত তামাংয়ের হেডের পর সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাল কাঁপান তিনি। শেষদিকে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় দলটি। ৮৮ মিনিটে পা ওমর বাবুর বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে গোল করে জয় নিশ্চিত করেন বদলি হিসেবে নামা জাপানি মিডফিল্ডার শুকি ইতোফুসা। টুর্নামেন্ট থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হলেও বড় এক অর্জনের মাধ্যমে অভিযান শেষ করল ফর্টিস এফসি। ৭১ মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ফর্টিস। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়িয়ে তিন গোল আদায় করে নেয় ফর্টিস। শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখে দলটি। তবু হতাশার সেই অভিযান শেষ হলো বড় এক প্রাপ্তিতে।



