বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ বর্তমানে কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন। ফোর্বস অ্যাডভাইজারের এক সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৭৯ কোটিতে পৌঁছেছে। একজন নিয়মিত ব্যবহারকারী গড়ে প্রতি মাসে ছয়টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকছেন। মার্কিন সাময়িকী ‘ফোর্বস’–এর ব্যবসা ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ‘ফোর্বস অ্যাডভাইজার’-এর এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
ব্যবহারকারীদের সময়ের হিসাব করলে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি সপ্তাহে গড়ে ১৮ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করছেন, যা দৈনিক প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট। বিশ্বের সব ব্যবহারকারীর সময়কে একত্রে যোগ করলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৫০০ কোটি ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে এসব প্ল্যাটফর্মে।
বাজার দখলের দিক থেকে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো এগিয়ে আছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ মিলিয়ে মেটার মোট দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী দাঁড়িয়েছে ৩৫৬ কোটিতে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে স্ন্যাপচ্যাটের পারফরম্যান্সও ঊর্ধ্বমুখী। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক নাগাদ এর দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৪৮ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া প্ল্যাটফর্মটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৯৫ কোটি ৬০ লাখে উন্নীত হয়েছে। ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো এককভাবে শীর্ষে অবস্থান করছে।
বিনোদন ও তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ডেলয়েটের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিভিন্ন শো, শিল্পী বা কনটেন্টের ৫২ শতাংশ ভক্ত জানিয়েছেন যে, নতুন সিনেমা, গান, টিভি শো বা গেম সম্পর্কে জানার প্রধান উৎস এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তরুণ প্রজন্মের বা জেন-জির ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৭৩ শতাংশ। বিনোদন ও কনটেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষের নির্ভরতা দ্রুত পাল্টাচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষণকারী সংস্থা ডেলয়েটের তথ্যমতে, বিভিন্ন শো, শিল্পী বা কনটেন্টের নিয়মিত ভক্তদের ৫২ শতাংশই জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নতুন কোনো টিভি শো, সিনেমা, গান, গেম বা ইভেন্ট সম্পর্কে জানার মূল মাধ্যম এখন সামাজিক যোগাযোগম।
তবে এসব প্ল্যাটফর্মে পণ্য বা কনটেন্টের সন্ধান পাওয়ার পর কেনাকাটা বা দেখার জন্য ব্যবহারকারীরা অন্য ওয়েবসাইটে চলে যেতে পছন্দ করেন। সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পণ্যের খোঁজ পাওয়ার পর সেটি কেনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটে যান। নতুন প্রজন্মের বা জেন-জির ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬০ শতাংশ। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সরাসরি পণ্য বিক্রি বা কনভার্সন নিশ্চিত করা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।



