তামিলনাড়ুতে ইউটিউবার দম্পতির বাড়িতে কোটি টাকার সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়

, বিশ্ব

তামিলনাড়ুতে ইউটিউবার দম্পতির বাড়িতে কোটি টাকার সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়

ভারতের তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী জেলায় এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে নাগেরকোইলের থাম্মাথু কোনামের বাড়িটি তালাবদ্ধ রেখে বাইরে গিয়েছিলেন স্থানীয় জনপ্রিয় ইউটিউবার মধুমিতা ও তার স্বামী বিনোদ কুমার। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা বাড়ি ফিরে দরজার তালা খুলতে না পেরে কাঠমিস্ত্রি ডাকেন। পরে রাত পৌনে একটায় মিস্ত্রি এসে বাড়ির পেছনের ভাঙা দরজা দিয়ে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইউটিউবে সোনা ও টাকার ভিডিও প্রচারের পর রাতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরে রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে একজন কাঠমিস্ত্রিকে ডেকে আনা হয়। চুরির খবর প্রকাশের পর এসব ভিডিও আবার ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা ওই বাড়ি থেকে প্রায় ৮০ ভরি সোনার গহনা নিয়ে গেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি রুপি। এই চুরির ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মধুমিতার পুরোনো কিছু ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওগুলোতে তাকে প্রায়ই নিজের সোনার গহনা ও দামি সামগ্রী দেখাতে দেখা যেত। এমনকি তার একটি ভিডিওতে পূজার ঘরে রাখা সোনার গহনাও স্পষ্ট ছিল বলে দাবি করছেন নেটিজেনরা। তবে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও দেখেই চোরেরা বাড়িতে হামলা করেছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তখন দেখা যায়, সামনের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। বাড়ির ভেতরে ঢুকে তারা দেখতে পান, একটি আলমারিতে রাখা সোনার গহনা নেই।

তবে চুরির সাথে ইউটিউবের ওই ভিডিওগুলোর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করেনি পুলিশ। মধুমিতা মূলত জীবনযাপন, কেনাকাটা ও পরিবারের দৈনন্দিন নানা বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করে থাকেন। প্রায় ১০ মাস আগে তারা এই বাড়িটি কিনে বসবাস শুরু করেছিলেন।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর রাজাক্কামঙ্গলম থানা পুলিশের ছয়টি বিশেষ দল মাঠে নেমেছে। শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপার আনশুল নাগরসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চোরদের শনাক্ত করার জন্য ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশ চুরির ক্লু উদ্ধারে বিভিন্ন আলামত ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পুরোনো ভিডিওগুলো ঘিরে জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে অনলাইনে এভাবে ব্যক্তিগত সম্পদ বা মূল্যবান সামগ্রী প্রদর্শনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও এই চুরির দায় কার, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের ধরতে এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি মধুমিতার পরিচিত মহলেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।