গাজীপুরের শ্রীপুরে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর ও গালমন্দসহ পোস্ট দেওয়ার ঘটনায় আশরাফুল ইসলাম ওরফে সজল (২৬) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বরামা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক আশরাফুল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রীপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলে জানিয়েছেন সংগঠনের আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবাহ। সেই ধারাবাহিকতায় তাকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে।’। আশরাফুল ইসলামের ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবু তাকে গ্রেফতার করা হলো, এটা মানতে পারি না।’। এ ঘটনায় করা মামলায় আশরাফুলকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জন্য তাকে আটক করা হয়নি। বরং ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মশালমিছিলের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, গ্রেপ্তারের পরবর্তী সময়েই তারা আশরাফুলের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও পোস্টের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কোনও ফেসবুক স্ট্যাটাসের জন্য নয়; বরং তাকে গ্রেফতারের অনেক পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখেছেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় মশালমিছিল করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে, আশরাফুলের মা আসমা আক্তার জানান, তিন-চার দিন আগে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে তার ছেলে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি পোস্ট দিয়েছিল। পরে অনেকেই তাকে পোস্টটি মুছে ফেলতে বললে তিনি তা সরিয়েও ফেলেন। তবে মা দাবি করেন, ফেসবুকে মন্তব্য ও স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণেই তার ছেলেকে পুলিশ নিয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ, হয়তো আবেগের বশে ভুল করে ফেলেছে। তবে পরে তার আইডিতে গিয়ে সেই স্ট্যাটাস পাওয়া যায়নি।
দলীয় নেতার গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে এনসিপি নেতা আবু রায়হান মেজবাহ বলেন, সজলের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে আশরাফুলের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, গুলিবিদ্ধ ৫ জন।
আবু রায়হান আরও জানান, সজলের গ্রেপ্তারের ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার রাতে স্থানীয় বরমী বাজারে তাদের দলের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এদিকে, পুলিশের ভাষ্যমতে, ফেসবুক পোস্ট নিয়ে বিতর্কের আগেই তিনি ওই মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নজরদারিতে ছিলেন এবং সেই মামলার ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের এই ঘটনাটি এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে পরিবারের দাবি ফেসবুকের মন্তব্যই গ্রেপ্তারের মূল কারণ, অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে এটি একটি পরিকল্পিত মামলার অংশ। ঘটনাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।



