রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে গত শনিবার রাতে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের সশস্ত্র হামলায় পুরো আবাসন এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউন ফিস’ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ বুধবার দুপুরে সেগুনবাগিচা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ক্যান্টনমেন্ট থানায় দায়ের করা মামলায় গোলাম মহিউদ্দিন ৪ নম্বর আসামি। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানও রয়েছেন। নিউগিনিতে হামলায় সাবেক সেনা-কর্মকর্তা গ্রেপ্তার। গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় দুই শতাধিক লোক অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পুরো আবাসন এলাকায় তাণ্ডব চালায়। ওই ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তাসহ এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ৮ জনকে। বাসা ৫১২/১০, মানিকদি রোড, ক্যান্টনমেন্ট থানা। রোড নম্বর ৯, মিরপুর ডিওএইচএস কালচারাল সেন্টার, মিরপুর।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, ৫ হাজার বর্গফুটের ওই স্টুডিওর ভাড়ার চুক্তিপত্রে সালমান মুক্তাদিরের নাম নেই। চুক্তি অনুযায়ী, নিউগিনি প্রপার্টিজের মালিক ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়ার সঙ্গে সালমান মুক্তাদিরের বন্ধু এসএম রিফাত মেনন চার বছরের জন্য এই শেডটির চুক্তি করেছিলেন। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর সম্পাদিত ওই চুক্তির প্রথম পক্ষে নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং দ্বিতীয় পক্ষে রিফাত মেননের নাম রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, ইজারাগ্রহীতা অন্য কাউকে সাব-লেট দিতে পারবেন না এবং এটি শুধুমাত্র অফিস ও স্টুডিওর কাজে ব্যবহৃত হবে। তবে গত শনিবারের ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির দাবি করেন যে, হামলাকারীরা জানত না এটি তার স্টুডিও। অথচ স্ট্যাম্পে তৃতীয় পক্ষকে ভাড়া দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেখানে সালমান তার স্টুডিও গড়ে তোলেন। লুট করা হয় ভবনে থাকা বিভিন্ন অফিস ও আবাসনের মালামাল। নথি বলছে, ৫ হাজার বর্গ ফুটের ওই শেডের ভাড়ার চুক্তিপত্রে সালমান মুক্তাদিরের নাম নেই। ২০২৫ সালের ১লা নভেম্বর ১শ’ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পের ওই চুক্তিপত্রে দেখা যায়, প্রথম পক্ষ হিসেবে নাম রয়েছে— মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়ার।
বিষয়টি নিয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে যে, ওই প্রপার্টিজের মালিক ও জুলাই হত্যা মামলার আসামি নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়াকে সুরক্ষা দিতেই মূলত এসএম রিফাত মেনন এই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন এবং সালমান মুক্তাদির পুরো বিষয়টি অবগত ছিলেন। এদিকে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে হামলা হয়েছে বলে সালমান দাবি করলেও, নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার করা মামলায় জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৩ জনকে নামীয় এবং আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে এই মামলাটি করা হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সালমান মুক্তাদিরের সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে ই-মেইল পাঠিয়েছে। তার হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি এবং লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ তলব করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে। হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় হওয়া মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।



