শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ফেদুল্লা বেপারী কান্দি এলাকায় পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে মো. কামরুল (১৪) নামের এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। আহত কামরুল ওই এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাক বেপারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে জুনায়েদ আহমেদ (১৭) নামের এক কিশোর রাস্তার পাশে কসটেপ দিয়ে মোড়ানো গোলাকার একটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখে। সেটিকে খেলনা বল মনে করে জুনায়েদ হাতে তুলে নেয়। এ সময় কামরুল তার কাছে এসে বস্তুটি সম্পর্কে জানতে চায়। পরে তারা দুজন মিলে বস্তুটি স্থানীয় বৃদ্ধা নাসিমা বেগমের কাছে নিয়ে যান। নাসিমা বেগম সেটিকে ককটেল হিসেবে চিহ্নিত করলে ভয়ে জুনায়েদ বস্তুটি হাত থেকে মাটিতে ফেলে দেয়। সাথে সাথেই সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং কামরুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্প্লিন্টারের আঘাত লাগে।
বিস্ফোরণের পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং আহত কামরুলকে উদ্ধার করে স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় খবর পেয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ওই এলাকার রাস্তা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও দুটি তাজা ককটেল উদ্ধার করেছে। এলাকায় আর কোনো বিস্ফোরক পদার্থ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুজ্জামান জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুটি ককটেল উদ্ধার করেছে এবং আহত কিশোরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জনবহুল এলাকায় এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় বিস্ফোরক পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



