সম্প্রতি ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ‘বোট’ (ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম) ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করল ফ্রান্স ফুটবল। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচিত সেরা মৌসুমের জন্য কোনো বাস্তব ট্রফি বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। এটি কোনো অবস্থাতেই ঐতিহাসিক ‘সুপার ব্যালন ডি’অর’-এর প্রত্যাবর্তন নয়। ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই ভোট চালু হয়েছে। এবার সেটি পরিষ্কার করেছে ফ্রান্স ফুটবল। তারা জানিয়েছে, এটি ঐতিহাসিক সুপার ব্যালন ডি’অরকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নয়। তার কয়েক দিন আগেই এই ভোট শুরু হওয়ায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। এখানে খেলোয়াড়ের পুরো ক্যারিয়ার বা ব্যালন ডি’অরের সংখ্যা দেখা হচ্ছে না। তুলনা হচ্ছে একেকটি মৌসুমের পারফরম্যান্সের মধ্যে। কতবার ভোট দেওয়া যাবে, তার কোনো সীমা নেই। কিন্তু এটি সুপার ব্যালন ডি’অর গোছের কিছু নয় আদৌ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নানা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ফ্রান্স ফুটবল জানায়, এই উদ্যোগটি মূলত সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসাকে উদ্যাপন করার একটি মাধ্যম। এটি কোনো অফিশিয়াল ঐতিহাসিক পুরস্কার নয়। আগামী ২৬ অক্টোবর ব্যালন ডি’অরের মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে এবং সমর্থকদের ভোটে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২৮ অক্টোবর। এই ভোটিং প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ভোটের জন্য এক ইউরো ফি নির্ধারিত রয়েছে এবং যে কেউ যত খুশি ভোট দিতে পারেন। এই ভোটের বিজয়ী কোনো ট্রফিও পাবেন না।
ভোটে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ব্রাজিলের রোনালদো, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেদো দি স্তেফানো—এই ১০ জন কিংবদন্তি ফুটবলারের বিভিন্ন মৌসুম বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চলমান এই ভোটে ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছে রোনালদোর ২০০৮ সালের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মৌসুম। অন্যদিকে, মেসির ২০১২ ও ২০১৩ সালের মৌসুম দুটি নয় শতাংশ করে ভোট পেয়ে তালিকার পেছনে রয়েছে। বিবেচনায় আছেন এমন ১০ জন, যারা ব্যালন ডি’অর একাধিকবার জিতেছেন। এই ভোটে সমর্থকেরা সেরা ব্যক্তিগত মৌসুম বেছে নিচ্ছেন। ওই বছর তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেছিলেন।
ফ্রান্স ফুটবল আরও স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ‘সুপার ব্যালন ডি’অর’ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিশেষ সম্মান। ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে মাত্র একবারই এটি প্রদান করা হয়েছিল। সে সময় রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড আলফ্রেদো দি স্তেফানো ইয়োহান ক্রুইফ ও মিশেল প্লাতিনির মতো তারকাদের পেছনে ফেলে এই পুরস্কারটি জিতেছিলেন। সেই বিরল পুরস্কারটি এরপর আর কখনোই কাউকে দেওয়া হয়নি এবং এর নতুন কোনো আসর বা তারিখও নির্ধারিত নেই। তাই বর্তমান ‘বোট’ ভোটকে কোনোভাবেই সুপার ব্যালন ডি’অরের সাথে মিলিয়ে ফেলা উচিত নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেবার সম্মানটি পান রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড দি স্তেফানো।



