বরিশালের হিজলা উপজেলার মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আক্তার হোসেন হাওলাদার (৪০) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দেওয়া হয়নি। স্থানীয় মেমানিয়া ইউনিয়নের চর মেমানিয়া গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে আক্তার বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে মেঘনায় মাছ ধরার সময় গুলিবর্ষণের শিকার হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট পার হওয়ার পর সকাল নয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলাইমান হোসেন জানান, যেহেতু গুলিবর্ষণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তাই পুলিশ নিজে বাদী হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। শুক্রবার দুপুরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
নিহতের জামাতা আবুল বাশার অভিযোগ করেছেন, টহলরত নৌ পুলিশের গুলিতেই তাঁর শ্বশুর নিহত হয়েছেন। নিহতের মুখ ও বুকে ছররা গুলির আঘাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। একই নৌকায় থাকা জেলে আবদুল ব্যাপারীর ভাষ্যমতে, বৃহস্পতিবার ভোরে বৃষ্টির মধ্যে কিনারের দিকে যাওয়ার সময় নৌ পুলিশ তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। এতেই আক্তার হোসেন ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। অন্য জেলেদের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন, টহলরত নৌ পুলিশের গুলিতে তিনি আহত হন। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সেই বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে নৌ পুলিশ। বরিশাল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার নাজমুল হক জানান, তাঁদের কোনো দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়নি এবং গুলিও ছোঁড়া হয়নি। চাঁদপুর নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমানও একই দাবি করে জানিয়েছেন, তাঁদের কোনো কার্যক্রম সেখানে ছিল না। হিজলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম মাহফুজুর রহমান জানান, ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। বুধবার রাতে তাঁদের কোনো অভিযানকারী দল নদীতে ছিল না, কারণ তাঁদের স্পিডবোট বিকল ছিল। দেশে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ৮ অক্টোবর থেকে নদ-নদী ও সাগরে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা আজ শুক্রবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। শেষ দুই দিন ছোট ট্রলার নিয়ে সীমিত পরিসরে অভিযান চালানো হয়েছে।
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলিয়াস সিকদার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলটি দুর্গম এবং চাঁদপুরের সীমান্তবর্তী হওয়ায় প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ সব তথ্য যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান করছে। এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং গুলির কারণ কী—তা তদন্ত সাপেক্ষে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিষয়টি বিভিন্নভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।



