ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যে অনূর্ধ্ব-২০ রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপের একটি ম্যাচে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। ফুটবল–ইতিহাসে কোনো ম্যাচে এমন ভয়াবহ মারামারি হয়েছে কি না, সেটা সত্যিই গবেষণার বিষয়। ব্রাজিলের মিনাস গেরাইসে অনূর্ধ্ব–২০ পর্যায়ে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে গত রোববার উবেরলান্দিয়ার মুখোমুখি হয় মামোরে।
গত রবিবার উবেরলান্দিয়া ও মামোরের মধ্যকার ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ক্লাব কর্মকর্তাদের ব্যাপক মারামারির ঘটনায় মোট ৫৩ জনকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক মোদেস্তে। মামোরের ৩–১ গোলে জয়ের এ ম্যাচে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফরা। রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক মোদেস্তের ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই দল মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার পর মোট ৪০ জন খেলোয়াড় ও ৮ জন স্টাফকে লাল কার্ড দেখান রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক মোদেস্তে।
এই ঘটনায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী ফুটবল মাঠে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের নতুন বিশ্ব রেকর্ড তৈরি হয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৬ লাল কার্ড দেখা গেছে। সেই রেকর্ড ভেঙে এবার গিনেস বইয়ে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়ল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের এ ম্যাচ।
এর আগের রেকর্ডটি ছিল ৩৬টি লাল কার্ডের, যা ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগে দেখা গিয়েছিল। সেটা ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগে ক্লাব আতলেতিকো ক্লাইপোলে ও ভিক্টোরিয়া আরেভাসের মধ্যকার ম্যাচে। এথেন্সকে স্তব্ধ করে রিয়ালকে জেতালেন ভালভের্দে।
ম্যাচটির দ্বিতীয়ার্ধে রেফারির রিপোর্ট অনুযায়ী, উবেরলান্দিয়ার খেলোয়াড় লুইকে বিস্পো দো সান্তোস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পাওয়ার পরই মাঠের পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তখন থেকেই দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতি শুরু হয়। রেফারি মোদেস্তে জানান, উবেরলান্দিয়ার কোচিং স্টাফদের কয়েকজন মাঠে ঢুকে তাকে এবং অন্য ম্যাচ কর্মকর্তাদের আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে হুমকি দেন। তাদের হুমকি ছিল ভয়াবহ, যার মধ্যে ছিল প্রাণনাশের হুমকিও। এমন পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন রেফারি। মিনাস গেরাইস ফুটবল ফেডারেশন প্রকাশিত ও রেফারির ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, মামোরে দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ের ৯ মিনিটে প্রায় সব কটি লাল কার্ড দেখানো হয়। দেখি তোকে পুলিশ পাহারা দিয়ে বের করতে পারে কি না। উবেরলান্দিয়ার এই দুই স্টাফকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং ‘মাঠে ঢুকে পড়া সব কর্মকর্তাকে সরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত’ ম্যাচটি ৪০ মিনিট স্থগিত রাখা হয়। তাঁদের একজনের রেফারিদের প্রতি হুমকির ভাষা ছিল এমন, ‘আজ এখান থেকে বের হতে পারবে না। আমাদের ক্ষতি করতেই তোমরা এখানে এসেছ। বাইরে তোকে দেখে নেব, শুধু তুই আর আমি, তোকে আমি খুন করব।’।
ম্যাচ রিপোর্ট বলছে, উবেরলান্দিয়ার ২৪ জন এবং মামোরের ২৯ জনকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মোট লাল কার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৩ জন খেলোয়াড়, ৮ জন কোচিং স্টাফ এবং ২ জন ক্লাব অফিসিয়াল রয়েছেন। তবে হট্টগোলের তীব্রতার কারণে রেফারির পক্ষে শারীরিকভাবে তাৎক্ষণিক কার্ড দেখানো সম্ভব হয়নি। খেলা পুনরায় শুরুর ১৫ মিনিট পর ফাউলের প্রতিবাদ করায় মামোরের আরও এক খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। এর এক মিনিট পরই প্রতিপক্ষকে ঘুষি মারার দায়ে উবেরলান্দিয়ার এক খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। দুই দলের স্কোয়াড এবং কোচিং স্টাফ থেকে বহিষ্কৃত অন্য ৪৬ জনের সঙ্গে সেই দুজনকেও ‘প্রতিপক্ষকে ঘুষি ও লাথি মারা’র দায়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা হয়। লিভারপুলকে হারিয়ে ১৮ বছর পর জয় ফেনেরবাচের। সেই খেলোয়াড় বলছিলেন, ‘মশকরা করছেন নাকি।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল মামোরের দ্বিতীয় গোল উদ্যাপনের সময়। গোল করার পর মামোরের এক খেলোয়াড় উবেরলান্দিয়া বেঞ্চের দিকে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করেন এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। এর পরপরই উবেরলান্দিয়া স্টাফরা মাঠে ঢুকে মারামারি শুরু করেন। এছাড়া, দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে মাঠের ছয়জন বলবয়ও খেলোয়াড়দের ওপর লাথি ও বিভিন্ন সামগ্রী ছুড়ে মারার ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন।
রেফারি তার রিপোর্টে আরও উল্লেখ করেন, উবেরলান্দিয়ার এক স্টাফ খেলোয়াড়দের লাথি মারা ছাড়াও স্টেডিয়ামের বিভিন্ন সরঞ্জাম যেমন কুলার ও ম্যাসাজ ব্যাগ নর্দমায় ফেলে দেন। পাশাপাশি, ম্যাচ শেষে জানা গেছে, মামোরে দলের খেলোয়াড়রা যে ড্রেসিংরুমে ছিলেন, সেটি তারা নিজেরাই ভাঙচুর করেছে। এই ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রেফারির বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকির ঘটনায় পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জানানো হয়েছে।



