সিরিজ বাঁচানোর লক্ষ্যে সিলেটে আয়োজিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লড়াইয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা স্বাগতিক বাংলাদেশ শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই সাদমান ইসলাম স্লিপে জশুয়া ডি সিলভার ক্যাচ হাতছাড়া করায় প্রথম সুযোগটি হাতছাড়া হয়। তবে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের দারুণ বোলিংয়ে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দিনের শুরুটা যে ইঙ্গিত দিচ্ছিল সেটা যেন ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। তবে দারুণ দুটি ইনসুইংয়ে ব্রেন্ডন কিং ও কাভেম হজের স্টাম্প ভেঙে শুরুতেই জোড়া সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ। কিন্তু বল বাঁক খেয়ে তাকে ফাঁকি দিয়ে ভেঙেছে দুটি স্টাম্প।
দলীয় ২৭ রানের মাথায় তিন উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়েছিল ক্যারিবীয়রা।
পঞ্চম ওভারে তাসকিনের ফুলার লেন্থের ডেলিভারি বুঝতে না পেরে বোল্ড হন কিং। ১৮ বলে ৯ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। পরের ওভারে হাসান মাহমুদের ইনসুইং বলের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন হজ। মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি অফ স্টাম্পের ডেলিভারি ছেড়ে দেওয়ার ভুলটি করেছিলেন। শুরুতে জীবন পাওয়া জশুয়া ডি সিলভাও বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। তাসকিনের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ১২ রানে ফেরেন তিনি। শরিফুল ইসলামের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া তাসকিন এই ম্যাচে দারুণ প্রভাব ফেলছেন, যদিও গরম ও ক্লান্তি তাকে কিছুটা ভোগাচ্ছে। ১৩ রানে কিংয়ের পর ১ রানের ব্যবধানে ওয়ানডাউনে নামা হজও ফিরেছেন প্রায় একইভাবে।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে দল যখন ধুঁকছিল, তখন হাল ধরেন অভিষিক্ত ব্যাটার কেভিন উইকহ্যাম ও আমির জাঙ্গু। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। দারুণ বোঝাপড়ায় ১০৪ বলে ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে লাঞ্চ বিরতিতে যান এই দুই ব্যাটার। প্রথম সেশনের শেষে জাঙ্গু ৫৪ বলে ৩২ এবং উইকহ্যাম ৬০ বলে ২৭ রানে অপরাজিত রয়েছেন। এই জুটি বাংলাদেশকে চাপে ফেলে এখন পর্যন্ত ৮৬ রানের সংগ্রহ এনে দিয়েছে। বাংলাদেশ এই ম্যাচে দুই পেসার ও তিন স্পিনারের কৌশল অবলম্বন করেছে, যা সিলেটের কন্ডিশনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তাসকিন আহমেদের জোড়া এবং হাসান মাহমুদের এক আঘাতের পর চতুর্থ উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়েছে ক্যারিবীয়রা। ফলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৬ রান। এরপর দলীয় ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ব্রেকথ্রু পেতে বাংলাদেশকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি।



