রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। নিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘উয়েনো’ ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরপরই এই সংকটের সূত্রপাত হয়। প্রেসিডেন্ট পেনা বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ভিডিও বার্তায় পেনা জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেন, যদি তিনি কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে থাকেন তবে তার দায়ভার তার। তিনি দাবি করেন, জনগণের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। দেশের স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার উদ্দেশ্যেই তিনি পদ ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। উল্লেখ্য, গত বছর পর্যন্ত পেনা ব্যাংকটির মালিকানাধীন কোম্পানির অংশীদার ছিলেন। যদিও তিনি বরাবরই তার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তবে তার পদত্যাগের ঘোষণার আগেই দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে ভোট দেওয়া হয়।
ব্যাংকটির দেউলিয়া হওয়ার ফলে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন গ্রাহকরা। উয়েনো ব্যাংকের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ, যা দেশটির মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ। ব্যাংকটিতে পেনশনসহ সরকারি বিভিন্ন তহবিলের অর্থ জমা ছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকটি দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু করলে লাখ লাখ গ্রাহক তাদের গচ্ছিত অর্থ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ৪৭ বছর বয়সী সান্তিয়াগো পেনা।



