ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ: টানা ১২ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

, চাকরি

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ: টানা ১২ দিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত

ভারতের ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে টানা ১২ দিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। গত ৫ জুলাই ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এই প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে শিক্ষার্থীরা দিনরাত এক করে রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাজ্য সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছে। বুধবার রাঁচির মহকুমা কর্মকর্তা (এসডিও) কুমার রজত বিক্ষোভস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলোচনার জন্য শিক্ষার্থীদের পাঁচ থেকে সাতজনের একটি প্রতিনিধি দল গঠনের আহ্বান জানান। হেমন্ত সোরেন সরকার এই আলোচনার জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে শিক্ষার্থীরা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের স্পষ্ট দাবি, সরকারের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা হতে হবে স্বচ্ছ, উন্মুক্ত এবং গণমাধ্যম ও ক্যামেরার উপস্থিতিতে।

বিক্ষোভকারীরা এই পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআইয়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সিআইডি ইতিমধ্যে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা টিডিপিএলের হিসাবরক্ষক রক্ষক সিংকে লখনউ থেকে গ্রেপ্তার করে রাঁচিতে নিয়ে এসেছে সিআইডি। এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়ম উদ্ঘাটনে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) কাজ করছে। তারা পরীক্ষার ডিজিটাল রেকর্ড, আবেদনকারীদের তালিকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করছে। সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, অনিয়মের অভিযোগগুলো ইতিমধ্যে তদন্তাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এ নিয়ে কাজ করছে।

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই আন্দোলন একটি ‘চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও জানান, সিজেপির সদস্যরা চাকরিপ্রার্থীদের সংহতি জানাতে ঝাড়খণ্ডে যাবেন।

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে নিজ শহরে সিজেপির কোর টিমের বৈঠকের আগে দীপকে বলেন, মানুষ বিচার বিভাগ, রাজনীতি, গণমাধ্যম এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তার মতে, এই আন্দোলন কেবল শিক্ষা বা নিয়োগের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি বৃহত্তর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

আন্দোলন যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই এর প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ঝাড়খণ্ডের এই পরিস্থিতি এখন ভারতের জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

তাদের দাবি, প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে ও প্রকাশ্যে পরিচালিত হলেই তারা আলোচনায় রাজি হবেন।

সব মিলিয়ে এ ঘটনায় অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

আমাদের আন্দোলন দেশব্যাপী সমর্থন পেয়েছে।

আন্দোলন যত বেড়েছে, সমর্থন কেবল শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এসব প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেও সমর্থন বেড়েছে।