২,৪৮০ নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগ: পিএসসিতে আটকে থাকা ফাইল

, চাকরি

২,৪৮০ নার্স ও মিডওয়াইফ নিয়োগ: পিএসসিতে আটকে থাকা ফাইল

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) এ সংক্রান্ত চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এর আওতায় সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে ১০ম গ্রেডের মোট ২,৪৮০ জন কর্মী স্বাস্থ্য খাতে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এর আওতায় ১০ম গ্রেডের ১ হাজার ৫৬৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং ৯১৪ জন মিডওয়াইফ সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে মিডওয়াইফ পদের চাহিদাপত্রটি সম্প্রতি পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র স্টাফ নার্সের তীব্র শূন্যতা রয়েছে। কিন্তু সে সময় পিএসসি চিঠি দিয়ে জানায় যে পদসংখ্যা ও আনুষঙ্গিক তথ্যে কিছু অসংগতি রয়েছে।’।

নিয়োগের মূল তথ্য

  • সিনিয়র স্টাফ নার্স পদ: ১,৫৬৬টি (১০ম গ্রেড)
  • মিডওয়াইফ পদ: ৯১৪টি (১০ম গ্রেড)
  • বর্তমান অবস্থা: চাহিদাপত্র পিএসসিতে প্রক্রিয়াধীন

সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘ সাত মাস ধরে প্রশাসনিক জটিলতায় স্থবির হয়ে ছিল। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অনুবিভাগের উপসচিব খুরশীদ আলম জানান, গত ২৪ মার্চ প্রথমবার চাহিদাপত্র পিএসসিতে পাঠানো হলেও পদসংখ্যা ও তথ্যের অসংগতির কারণে প্রক্রিয়াটি আটকে যায়। পরবর্তীতে সব জটিলতা নিরসন করে ৭ অক্টোবর সংশোধিত চাহিদাপত্র পুনরায় পিএসসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগে ৭ মাসের ধীরগতি।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মিডওয়াইফের ১,০১৫টি পদ শূন্য রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ১০ শতাংশ পদ সংরক্ষণ করে অবশিষ্ট ৯১৪টি পদে নিয়োগের জন্য ৫ অক্টোবর পিএসসিতে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়। তিনি জানান, ‘আমি অল্প দিন হলো এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব নিয়ে ১১ অক্টোবর বার্লিনে মিডওয়াইফারি বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রতিটি গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জীবনরক্ষায় মিডওয়াইফরা প্রধান নিয়ামক। সরকার পর্যায়ক্রমে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, নিয়োগের পাশাপাশি ৬২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা জিডিপির ১.০১ শতাংশ। সরকার রোগ নিরাময়ের চেয়ে রোগ প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বর্তমানে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রার্থী বলেন, দাপ্তরিক ভুল সংশোধনেই যদি কয়েক মাস অতিবাহিত হয়, তবে চূড়ান্ত নিয়োগ পেতে কত সময় লাগবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

এ বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানিয়েছেন, কমিশনের নিয়ম ও চেকলিস্ট মেনে ফাইল নিখুঁত হওয়া বাঞ্ছনীয়। সব তথ্যাদি যাচাই-বাছাই শেষে বিধিসম্মতভাবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন করা হবে। প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে পারলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আমলাতান্ত্রিক এই প্রশাসনিক বিলম্ব দ্রুত কাটিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তাগিদ দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।