সৌদি আরবের দুটি নির্দিষ্ট অঞ্চল লক্ষ্য করে চালানো হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা নস্যাৎ করার দাবি করেছে ইয়েমেনে কর্মরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ইরানপন্থী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সঙ্গে সৌদি জোটের সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হুতিরা সৌদি আরবের ইস্টার্ন প্রভিন্স বা পূর্বাঞ্চলের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। একই সঙ্গে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে চারটি ড্রোন ছুড়েছিল তারা।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে এই সাতটি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আগাম সতর্কবার্তা জারি করেছিল, তবে পরে তারা জানিয়েছে যে ওই এলাকাগুলোতে এখন আর কোনো বিপদ নেই। এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরেও হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল। সৌদি আরবে ৭টি হামলার দাবি হুতিদের, মক্কায় পড়ল ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ। হুতিদের শক্তি কোথায়, বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধে জড়িয়েও কেন পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্র।
লোহিত সাগরের উপকূলীয় কৌশলগত এলাকাগুলো দখলে নেওয়ার পর থেকে হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে তাদের সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। এই প্রণালিটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। মূলত গত মাসে প্রণালিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর থেকেই সৌদি জোট তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ জোরদার করেছে। ইরানকে সমর্থনের জের ধরে হুতিরা নিয়মিতভাবে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি আরব উপদ্বীপের অন্য প্রান্তে থাকা হরমুজ প্রণালির বিপরীত দিকে অবস্থিত।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি জোটের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত অনেকটাই স্তিমিত থাকলেও সম্প্রতি সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। সৌদি জোট মূলত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। হুতিদের এই ক্রমবর্ধমান হামলা ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।



