নিউজিল্যান্ড ম্যারাথনে দৌড়াতে গিয়ে অ্যাথলেটের করুণ মৃত্যু

, খেলা

নিউজিল্যান্ড ম্যারাথনে দৌড়াতে গিয়ে অ্যাথলেটের করুণ মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে অংশ নিয়ে ফিনিশ লাইনের মাত্র দুই মাইল দূরে প্রাণ হারালেন ২৪ বছর বয়সী অ্যাথলেট র‍্যাচেল অ্যাপা। সেন্ট্রাল পার্কের কাছ থেকে এই ২৪ বছর বয়সী সাবেক কলেজ অ্যাথলেটকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

গত রবিবার ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কের কাছে দৌড়ানোর সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক সমাজকর্মী মিশেলা নিকোলাস দ্রুত তার সাহায্যে এগিয়ে যান। মিশেলার ভাষ্যমতে, তিনি র‍্যাচেলের কোনো স্পন্দন পাচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে উপস্থিত দর্শকরা সিপিআর দেওয়া শুরু করেন এবং ম্যারাথনের নিজস্ব মেডিকেল টিম তাকে দ্রুত মাউন্ট সিনাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। তবে সেখানে টানা ছয় ঘণ্টা চিকিৎসকদের লড়াইয়ের পর রাত ৯টা ৪০ মিনিটে র‍্যাচেলকে মৃত ঘোষণা করা হয়। দৌড়ানো অবস্থায় র‍্যাচেল যখন রাস্তায় পড়ে যান, তখন রেস দেখতে আসা মিশেলা নিকোলাস নামের এক হাসপাতাল সোশ্যাল ওয়ার্কার দ্রুত তার সাহায্যে এগিয়ে যান। এরপর সেখানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে দুজন চিকিৎসক দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং অ্যাম্বুল্যান্স আসার আগ পর্যন্ত পালাক্রমে র‍্যাচেলকে সিপিআর দিতে থাকেন।

নিহত র‍্যাচেল অ্যাপার বাবা স্টিভ অ্যাপা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের মতে তার মেয়ের মৃত্যুর কারণ ছিল ‘র‍্যাবডোমায়োলাইসিস’। এটি একটি বিরল ও জটিল শারীরিক অবস্থা, যেখানে অত্যধিক শারীরিক পরিশ্রমের ফলে পেশি দ্রুত ভেঙে রক্তে ক্ষতিকর উপাদান মিশে যায়। শোকাহত বাবা বলেন, সবসময় সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং নিখুঁত ফিটনেস বজায় রাখা মেয়ের এভাবে চলে যাওয়া কোনোভাবেই মানা যাচ্ছে না। পেনসিলভেনিয়ার বাসিন্দা র‍্যাচেল বাকনেল ইউনিভার্সিটির সাবেক ডিভিশন-১ ফিল্ড হকি খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

জীবনের প্রথম ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন র‍্যাচেল। ২০২২ সালে পার্কিনসন্স রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া নিজের প্রিয় দাদার স্মৃতি রক্ষায় এবং তার স্মরণে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তিনি এই প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। রেসের ২৪ নম্বর মাইল অতিক্রম করার পর বাবার কাছে পাঠানো শেষ টেক্সট মেসেজে তিনি লিখেছিলেন ‘ফাইনাল স্ট্রেচ’ বা শেষ মুহূর্তের কথা। কিন্তু সেই ফিনিশ লাইন স্পর্শ করার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সম্ভাবনাময় এই তরুণী অ্যাথলেট। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর আগে রেসের ২৪ নম্বর মাইলে পৌঁছানোর পর তিনি তার বাবাকে শেষ টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল— ‘ফাইনাল স্ট্রেচ’ (শেষ মুহূর্ত)।