ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় প্রকাশ্যে প্রকাশনা উৎসব আয়োজন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। অথচ এক সময় এই বটতলায় কুরআন তিলাওয়াত করলে শোকজ নোটিশ পেতে হতো, মসজিদের ইমাম বা কারিদের চাকরি পর্যন্ত চলে যেত। এমনকি রমজানকে স্বাগত জানিয়ে কোনো কর্মসূচি পালন করলেও বিচারের মুখোমুখি হতে হতো শিক্ষার্থীদের। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পাওয়া এই মুক্ত পরিবেশ ও অর্জিত স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটেই সংগঠনটি এবার প্রকাশনা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, ২৪-এর শহীদদের রক্ত এবং আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আজ আর কাউকে ইসলামের চর্চা করতে গিয়ে শোকজের আতঙ্ক নিয়ে বাঁচতে হয় না। কোনো হাফেজকে তিলাওয়াতের জন্য চাকরি হারানোর ভয়ে থাকতে হয় না, কিংবা বহিষ্কারের আতঙ্কে শিক্ষার্থীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে না। এখানে ইসলামের ইতিহাস, মুসলিম ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’।
বিগত ১৫ বছরের কঠোর দমন-পীড়নের স্মৃতিচারণ করে শিবির নেতা বলেন, এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিবিরের কোনো প্রকাশনা পাওয়া মানেই ছিল শিক্ষার্থীদের ওপর চরম নির্যাতন। কোনো ডায়েরি বা ক্যালেন্ডারকে জঙ্গি প্রমাণের উপাদানের চেয়েও ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে সাজানো মামলা দেওয়া হতো। এমনকি মেস থেকে শিক্ষার্থীদের চোখ বেঁধে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যার পর তাদের হাতে অস্ত্র ছিল বলে অপপ্রচার চালানো হতো। বাস্তবে এসব শিক্ষার্থীর ডায়েরি ও ম্যাগাজিনকে জঙ্গিবাদের আলামত হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, যা ছিল তৎকালীন ফ্যাসিবাদের এক গভীর ষড়যন্ত্র।
এসএম ফরহাদ আরও বলেন, আজকে এই ঐতিহাসিক স্থানে দাঁড়িয়ে আমরা জাতির সামনে আমাদের সেই সব প্রকাশনাগুলো তুলে ধরেছি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন নিজেরাই খতিয়ে দেখেন আমাদের প্রকাশনায় এমন কী ছিল যা বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারকে ভীত করে তুলেছিল। মূলত আমরা ইসলামের কথা বলতাম এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতাম। তরুণ প্রজন্মকে আত্মমর্যাদাশীল ও আদর্শবান হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য, যা তারা সহ্য করতে পারেনি।
সবশেষে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, শত প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও গত ১৫ বছর শিবিরের প্রকাশনা কার্যক্রম কখনোই থেমে থাকেনি। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, কাঠামোগত সংস্কার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনাকে সমুন্নত রাখার সংগ্রাম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।



