হরিয়ানার মেডিকেল কলেজে দুই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি

, বিশ্ব

হরিয়ানার মেডিকেল কলেজে দুই নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে নারী সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি

ভারতের হরিয়ানার খানপুর কালান এলাকার ভগত ফুল সিং সরকারি মহিলা মেডিকেল কলেজে দুই নারী এমবিবিএস ইন্টার্ন চিকিৎসককে এক শ্রমিক যৌন হয়রানি ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খানপুর কালান মহিলা থানার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে আলাদা দুটি ঘটনায় দুই নারী এমবিবিএস ইন্টার্নকে হয়রানি করা হয়। ভুক্তভোগী ইন্টার্নদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে এবং অভিযুক্ত শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ১৫ই আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক নারী চিকিৎসক ক্যাম্পাসের লাইব্রেরির দিকে যাচ্ছিলেন এবং অন্য একজন ইন্টার্ন তার দায়িত্ব পালনের জন্য যাচ্ছিলেন। অভিযুক্ত শ্রমিক তাদের অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করে। দুই ইন্টার্ন কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আলাদাভাবে হাঁটছিলেন এবং ওই শ্রমিক দু’জনকেই লক্ষ্য করে হয়রানি করে। ভুক্তভোগী দুই ইন্টার্নই ভগত ফুল সিং সরকারি মহিলা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলে থাকেন। অভিযুক্ত শ্রমিকটি কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন একটি স্থানে কাজ করত এবং তাকে ১৬ই আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের ৭৪ ও ৭৮ ধারায় মামলা করা হয়েছে। ৭৪ ধারা কোনো নারীর শ্লীলতাহানি করার উদ্দেশ্যে হামলা বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং ৭৮ ধারা অনুসরণ বা স্টকিং-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘটনার পর মঙ্গলবার বেশ কয়েকজন এমবিবিএস শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে ধর্নায় বসেন। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করতে হবে। বিক্ষোভকারী এক শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের বলেন, ওই শ্রমিক দুই ভুক্তভোগীকে শারীরিক ও যৌনভাবে আক্রমণের চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ঈশ্বরের কৃপায় তারা রক্ষা পেয়েছেন, অন্যথায় আরও ভয়াবহ কিছু ঘটতে পারত।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা আগে জানানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান। ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে, কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এর আগে তাদের দীর্ঘ বৈঠক হয় এবং কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাসও দিয়েছিল। কিন্তু ঘটনার মাত্র এক দিন পর শিক্ষার্থীরা দেখতে পান, ঘটনাস্থলে কোনো নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়নি এবং সেখানে কোনো আলোও বসানো হয়নি। ওই শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন অনিরাপদ পরিবেশে আমরা এভাবে কাজ করতে পারি না। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী আরও বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং চিকিৎসাকর্মী, চিকিৎসক, রোগী এবং ক্যাম্পাসে থাকা অন্য ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গেও এটি সরাসরি জড়িত। তাই তাদের প্রধান দাবি হলো ক্যাম্পাসে নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো। তার মতে, কলেজ ক্যাম্পাসটি বিশাল হলেও সেখানে বর্তমানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী নেই, যা শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।