নজিরবিহীন বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা, চলমান যুদ্ধ এবং ভয়াবহ বাজেট সংকটের মুখে থাকা জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য বর্তমানে পাঁচ নারী ও তিন পুরুষসহ মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো এই বিষয়ে বিভক্ত থাকায় শেষ পর্যন্ত কার হাতে দায়িত্ব যাবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের ভোটে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করা হবে এবং পরবর্তীতে সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের জন্য তার নাম পাঠানো হবে।
প্রার্থীদের পরিচিতি ও পটভূমি
- রেবেকা গ্রিনস্প্যানকোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) প্রধান। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ চুক্তিতে মধ্যস্থতা করে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক দক্ষতা প্রমাণ করেছেন।
- মিশেল বাচেলেতচিলির সমাজতন্ত্রী নেত্রী ও দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় শক্তিগুলোর চাপের মুখেও মহাসচিবের ‘নৈতিক কণ্ঠস্বর’ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
- মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসাইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাবেক সভাপতি। তিনি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন।
- রাফায়েল গ্রসিআর্জেন্টিনার পেশাদার কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বর্তমান প্রধান। তিনি মনে করেন, মহাসচিব পদে প্রচারণার জন্য বর্তমান দায়িত্ব ছাড়লে তা হবে দায়িত্বের অবহেলা।
- ক্যারোলিন রড্রিগেস-বির্কেটগায়ানার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘে দেশটির বর্তমান রাষ্ট্রদূত। তিনি বৈশ্বিক অঙ্গনে জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিচ্ছেন।
- ইভোনে এ-বাকিইকুয়েডরের এই কূটনীতিক ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত থাকাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তিনি ১৯৯৫ সালে ইকুয়েডর ও পেরুর মধ্যে সীমান্ত সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রেখেছিলেন।
- ম্যাকি সালসেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও আফ্রিকান ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। ল্যাটিন আমেরিকার বাইরে থেকে আসা এই প্রার্থী নিজ দেশের সমর্থন পেলেও, সেনেগালের রাজনৈতিক বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
- ওলার ওতুন্নুউগান্ডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘে দেশটির সাবেক দূত। তিনি কফি আনানের অধীনে শিশু ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা এবং বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ মহাসচিব নির্বাচনে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ প্রার্থীদের মধ্যে একজনকে বেছে নেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কোনো প্রার্থীকে নিরাপত্তা পরিষদের প্রয়োজনীয় নয়টি ভোট পাওয়ার পাশাপাশি ভেটোও এড়াতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই এখন জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভাগ্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ফ্রান্স ও রাশিয়ার হাতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে জাতিসংঘের শীর্ষ পদে প্রচারণা চালাতে তিনি দায়িত্ব থেকে ছুটি নিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন দখলের পর মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শস্য রপ্তানি চালু রাখতে ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ চুক্তিতে মধ্যস্থতা করে তিনি কূটনৈতিক সাফল্য দেখান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৭০ বছর বয়সী গ্রিনস্প্যান নিজের পারিবারিক ইতিহাসের কথাও তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষায়, তারা হলোকাস্টে ‘কোনোভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন’ এবং পরে কোস্টারিকায় অভিবাসী হন।



