গত মাসে তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফেরার সময় ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার সুনির্দিষ্ট হুমকির মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এই ঝুঁকি এড়াতে হোয়াইট হাউস এক ব্যতিক্রমী নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করে। ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাতে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে একটি সামরিক বিমানে স্থানান্তর করা হয়। যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল যে প্রেসিডেন্ট এয়ার ফোর্স ওয়ানে করেই ফিরছেন, কিন্তু বাস্তবে তাকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে গোপন সামরিক বিমানে তোলা হয়েছিল।
এই বিশেষ ‘ডিসেপশন অপারেশন’ বা ধোঁকাবাজি অভিযানটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিচালনা করা হয়। টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে বড় এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে উঠতে দেখা গেলেও, কয়েক মিনিট পরেই তাকে বিমানের খাবার ও রসদ সরবরাহে ব্যবহৃত ক্যাটারিং ট্রাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রেসিডেন্টের প্রকৃত অবস্থান গণমাধ্যম এমনকি হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মীর কাছ থেকেও গোপন রাখা হয়েছিল। একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের তরফ থেকে আসা বিশ্বাসযোগ্য হুমকির কারণেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এর আগে ৮ জুলাই তুরস্ক ছাড়ার সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি কাতার কর্তৃক উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বোয়িং ৭৪-৮ জেটের পরিবর্তে পুরনো একটি এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন। ন্যাটোর ওই সফরেই নতুন বিমানটি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ভ্রমণে ব্যবহৃত হয়েছিল। তুরস্কের সীমান্তবর্তী দেশ ইরান হওয়ায় ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। আঙ্কারা ছাড়ার আগে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, পুরনো দিনের স্মৃতির খাতিরেই তিনি পুরনো বিমানটি ব্যবহার করছেন। ক্যামেরার সামনে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর তাকে গোপনে একটি ছোট এয়ার ফোর্স সি-৩২এ বিমানে স্থানান্তর করা হয়।
প্রেসিডেন্টের সাথে থাকা সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কিছু স্টাফও জানতেন না যে তিনি আসলে অন্য বিমানে আছেন। ফ্লাইটের সময় সাংবাদিকদের বিমানের জানালা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প মজা করে বলেছিলেন, আপনারা হয়তো একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন, তবে আমি গেলে আপনারাও যাবেন। সি-৩২এ বিমানটি পরে বৃটেনে পৌঁছায় এবং স্থানীয় সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ও সাংবাদিকরা সেখানে পৌঁছান। তবে ছোট বিমান থেকে ট্রাম্পকে পুনরায় কীভাবে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভ চ্যুং এক বিবৃতিতে জানান, আমেরিকার অনেক শত্রুর নজর প্রেসিডেন্টের ওপর রয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকেন।



