মৃত কনস্টেবলের মোবাইলে ৪২ দিন পর সরকারি স্বাস্থ্য বীমার মেসেজ, তোলপাড় ছত্তিশগড়ে

, বিশ্ব

মৃত কনস্টেবলের মোবাইলে ৪২ দিন পর সরকারি স্বাস্থ্য বীমার মেসেজ, তোলপাড় ছত্তিশগড়ে

ছত্তিশগড় পুলিশের কনস্টেবল দেব নারায়ণ রামের মৃত্যুর ৪২ দিন পর তাঁর স্ত্রীর মোবাইলে সরকারি স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ২৬ জুন অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে অম্বিকাপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৩০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিয়ম মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি মৃত্যু সনদও হাতে পান তাঁর স্ত্রী সীমা কুজুর। কিন্তু মৃত্যুর দীর্ঘ ৪২ দিন পর আসা ওই বার্তায় দাবি করা হয়, দেব নারায়ণ রাম সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন এবং তিনি বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়ে সন্তুষ্ট।

নিজে ওই হাসপাতালের একজন কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ সীমা কুজুর। তিনি একটি ভিডিও বার্তায় প্রশ্ন তুলেছেন যে, একজন মৃত ব্যক্তিকে কীভাবে ৪২ দিন ধরে সিস্টেমে জীবিত ও চিকিৎসাধীন দেখানো হলো। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর আয়ুষ্মান কার্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের আর্থিক জালিয়াতি বা অবৈধ সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না। এই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

তবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। অম্বিকাপুর মেডিকেল হাসপাতালের চিকিৎসক শৈলেন্দ্র গুপ্ত জানিয়েছেন, রোগীর চিকিৎসার জন্য কেবল ওই চার দিনের সমপরিমাণ অর্থই কার্ড থেকে কাটা হয়েছে এবং মৃত্যুর পরবর্তী সময়ের জন্য কোনো বাড়তি টাকা দাবি করা হয়নি। ডা. গুপ্তার দাবি, রোগীর মৃত্যুর পর সিস্টেমে কার্ডটি ব্লক করতে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের গাফিলতি ছিল, যার ফলে এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ওই অপারেটরকে আয়ুষ্মান কার্ড সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও এই ঘটনা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নজরদারি ও ডেটা ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একজন মৃত ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে সিস্টেমে সক্রিয় রাখার বিষয়টি সরকারি পরিষেবার গাফিলতি হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।

এরপর তাঁর স্ত্রী সীমা কুজুরের কাছে ৪২ দিন পর ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে।

আমরা আশা করি, আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার (পিএম-জেএওয়াই) অধীনে প্রদত্ত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়ে আপনি সন্তুষ্ট।

তাতে লেখা, মৃত ব্যক্তি নাকি সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং খুব শিগগিরই বাড়ি ফিরবেন!

এত বড় একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি কীভাবে ঘটতে পারে?

হাসপাতালের একজন কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও আমার সঙ্গে যদি এমন ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়।’

হাসপাতালের ব্যাখ্যার পরও বিতর্ক থামছে না।