লাতিন আমেরিকায় চীনের নীরব আধিপত্য: অবকাঠামো থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়ছে নির্ভরশীলতা

, বিশ্ব

লাতিন আমেরিকায় চীনের নীরব আধিপত্য: অবকাঠামো থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়ছে নির্ভরশীলতা

লাতিন আমেরিকায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে পেরুর চাংকাই বন্দর কিংবা ইকুয়েডরের কোকা কোডো সিনক্লেয়ার বাঁধের মতো বড় প্রকল্পগুলো নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অস্বস্তি স্পষ্ট। ওয়াশিংটনের অনেক নীতিনির্ধারকের মতে, বিশাল অঙ্কের ঋণ ও রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে বেইজিং এই অঞ্চলের সরকারগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে বেইজিং এখন আর কেবল বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পের ওপর নির্ভর করছে না, বরং তারা কৌশল বদলে স্থানীয় ও নগর পর্যায়ে ছোট কিন্তু কার্যকর উদ্যোগে মনোযোগ দিয়েছে।

২০১০-এর দশকের পুরো সময়জুড়ে চীন লাতিন আমেরিকার অবকাঠামো খাতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বন্দর, বাঁধ এবং আন্তমহাদেশীয় রেলপথের মতো মেগা প্রকল্পগুলোতে বিপুল অর্থ ঢালা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল খনিজ সম্পদের সরবরাহ নিশ্চিত করা, নিজস্ব পণ্যের বাজার তৈরি করা এবং কূটনৈতিক সমর্থন আদায় করা। তবে ২০২০-এর দশকের শুরু থেকে চীন তাদের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। বড় প্রকল্পের উচ্চ ব্যয় এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রেখে তারা ‘ছোট কিন্তু সুন্দর’ বা ক্ষুদ্র উদ্যোগের দিকে ঝুঁকেছে।

এই পরিবর্তনের ফলে সরকারি ঋণের প্রবাহ নাটকীয়ভাবে কমেছে। ২০১০ সালে যেখানে বার্ষিক ঋণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, বর্তমানে তা গড়ে ১৩০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। তবে বিনিয়োগের ধরণ বদলেছে। ২০২৪ সালেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো লাতিন আমেরিকায় প্রায় ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা মূলত বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। চীনা সরকার সরাসরি ঋণ না দিলেও তাদের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভর্তুকি দিচ্ছে, ফলে স্থানীয় বাজারে চীনা পণ্য অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমানে চীনের প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হলো অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে অপরাধ দমন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু, আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীন কম দামে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। শুরুতে কাঁদানে গ্যাস, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট বা মোটরসাইকেলের মতো সাধারণ সরঞ্জাম দিয়ে সম্পর্ক শুরু হলেও, পরবর্তীতে তা জটিল প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থায় রূপ নিচ্ছে। আজ লাতিন আমেরিকার অন্তত ৩৫টি শহরে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

আর্জেন্টিনার দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০১৮ সালের মধ্যেই দেশটির নজরদারি প্রযুক্তির ৬২ শতাংশই ছিল চীন থেকে আমদানিকৃত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। ইকুয়েডরের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও গভীর; একটি ছোট চুক্তি থেকে শুরু করে বর্তমানে দেশটির পুরো নিরাপত্তাকাঠামোই চীনা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া পুরো অঞ্চলের বিভিন্ন শহরের পুলিশ বাহিনীকে চীন অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম দিচ্ছে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে।

নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে চীন লাতিন আমেরিকার পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কিউবা ও পানামার পুলিশ কর্মকর্তারা চীনের শেনইয়াং শহরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিকারাগুয়ার পুলিশপ্রধানের সঙ্গে বেইজিং নতুন একটি প্রশিক্ষণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া প্রায় ১৭টি লাতিন আমেরিকান দেশের সঙ্গে চীনের ১৮০টির মতো সিস্টার-সিটি চুক্তি রয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে বেইজিংয়ের প্রভাবকে আরও সুসংহত করেছে।

চীনের এই কৌশলটি অত্যন্ত নীরব, যা অনেক সময় জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের নজর এড়িয়ে যায়। পেরুর রাজধানী লিমার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এখন পুরোপুরি চীনা নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া ছোট শহরগুলোর কেনাকাটার অফিস বা পুলিশ একাডেমিতে চীনের প্রবেশাধিকার বাড়ছে। ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো দেশ একবার চীনের প্রযুক্তি গ্রহণ করলে তা পরবর্তীতে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

চীনের এই প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত নির্ভরতা লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। একবার কোনো জটিল সফটওয়্যার বা নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা চীনা প্রযুক্তিতে ঢুকে পড়লে তা পরিবর্তন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন। এছাড়া চীন কোনো কারণে অসন্তুষ্ট হলে সফটওয়্যার আপডেট বা খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ বন্ধ করে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে, যা দেশগুলোকে জিম্মি করে ফেলে।

২০০৮ ও ২০১৬ সালে প্রকাশিত চীনের লাতিন আমেরিকা নীতিতে নিরাপত্তা ইস্যুটি গৌণ থাকলেও, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত সর্বশেষ কৌশলপত্রে নিরাপত্তা সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হলো, পুলিশি সরঞ্জাম সরবরাহ ও নিরাপত্তার কাজগুলোতে বেইজিং বাস্তবে বেশ সফল হয়েছে। স্থানীয় সরকারগুলো দ্রুত সমাধান পাওয়ার আশায় চীনের এই চুক্তিগুলোকে লাভজনক মনে করলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ন করছে।

সামগ্রিকভাবে, লাতিন আমেরিকায় বেইজিং এমন এক ঝুঁকি তৈরি করেছে যা অনেকেই খেয়াল করছেন না। চীনের কারিগরি অবকাঠামোর ওপর ভর করে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও, বিনিময়ে দেশগুলো তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হারাচ্ছে। চীন তাদের নিজস্ব অর্থনীতিতে চাপ থাকলেও লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারের এই নতুন মডেলটি সফলভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

এই মডেলটি কেবল লাতিন আমেরিকায় নয়, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও চীন প্রয়োগ করছে। চীনা রাষ্ট্র পরিচালনায় সব সময় নির্দিষ্ট তত্ত্ব মেনে কাজ করা হয় না, অনেক সময় কাজ শুরুর পর তা তত্ত্বে রূপ নেয়। লাতিন আমেরিকার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই ঘটেছে—নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও ছোট প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে বেইজিং এখন ওই অঞ্চলের প্রতিটি স্তরে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছে।

পরিশেষে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্য চীনের এই অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। বিকল্পের অভাব এবং দ্রুত সমাধান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা দেশগুলোকে চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বেইজিংয়ের এই নীরব মিশন লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ওয়াশিংটনসহ পশ্চিমা বিশ্বের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১০-এর দশকের বেশির ভাগ সময়জুড়ে লাতিন আমেরিকার অবকাঠামো খাতে কোটি কোটি ডলার ঢেলেছে বেইজিং।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো লাতিন আমেরিকার বেশিসংখ্যক পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেয়।

২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চীনের প্রযুক্তি গ্রহণ করার পর কোনো দেশের সরকারই তা পুরোপুরি সরাতে পারেনি।

লাতিন আমেরিকার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকার কূটনৈতিক নিন্দা জানিয়েছে, ভিসা বাতিল করেছে এবং এমনকি বলপ্রয়োগের হুমকিও দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কেন চীনের তৈরি এসব বড় অবকাঠামো নিয়ে এত চিন্তিত, তা সহজেই বোঝা যায়।

বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও ঋণের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় চীন।

তবে ওয়াশিংটন মূলত সমস্যার পুরোনো কায়দা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে।

এর মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়ে ঢুকে পড়ছে চীন।যেমন, আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকটি প্রদেশে লিথিয়াম প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো।

আলাদাভাবে দেখলে এসব পদক্ষেপকে বেশ সাধারণ মনে হতে পারে।

এককথায় বলতে গেলে, বড় ও দৃশ্যমান প্রকল্পের বদলে স্থানীয় পর্যায় থেকে সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণের নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে বেইজিং।

এর মধ্যে ছিল বন্দর, বিশালাকার বাঁধ এবং পেরুর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল থেকে ব্রাজিলের আটলান্টিককে যুক্ত করার আন্তমহাদেশীয় রেলপথ।

(রেলপথটি শেষ পর্যন্ত তৈরি হয়নি, তবে এখনো আলোচনা চলছে।)

বিশেষ করে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদ ঘটিয়ে বেইজিংয়ের সমর্থন পেতে দেশগুলোকে রাজি করানোই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

তারা দেখেছে, বড় বড় প্রকল্প তৈরিতে খরচ অনেক বেশি।

আর এটা নিয়ে তীব্র ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

তা ছাড়া চীনের নিজস্ব অর্থনীতিতেও তখন চাপ চলছিল।

এগুলো এমন বিনিয়োগ, যা দেখতে বিশাল কিছু মনে হয় না।

বেইজিং তাদের শ্বেতপত্রে এই পরিভাষা দারিদ্র্য দূরীকরণের ছোট উদ্যোগ বোঝাতে ব্যবহার করে।

নিচে থেকে শুরু হওয়া এই বিনিয়োগের শেষ পরিণতি হয় গভীর নির্ভরতা।

এই মডেলটির গুরুত্ব বুঝতে অর্থপ্রবাহের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

এটি আগের বছরের চেয়ে মাত্র এক-দশমাংশ কম।

এসব কেনাকাটা সাধারণত বিনিয়োগ–সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে সহজে উঠে আসে না।

স্থানীয় কোনো সাংবাদিক প্রকাশ না করলে সাধারণ মানুষ এগুলো সম্পর্কে জানতেও পারেন না।

তবে অনেক সময় তাদের ভূমিকা পরোক্ষ হয়।

এভাবে ছোট ছোট কেনাকাটার চুক্তিগুলো জমা হয়ে শেষ পর্যন্ত কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়।

পরে বেইজিং এসব বাণিজ্যিক চুক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি সহযোগিতার কাঠামোতে রূপ দেয়।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা খাতেই চীন বেশি সাহায্য করছে।

রাজনৈতিক নেতারাও অপরাধ দমনের বড় প্রতিশ্রুতি দেন।

সংকট মেটাতে গিয়ে এসব সরঞ্জাম সানন্দে গ্রহণ করে স্থানীয় সরকারগুলো।

তবে চীনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত থাকে ক্যামেরা, সার্ভার ও বিচার বিভাগীয় আদান-প্রদান।

সবচেয়ে বড় কথা, চীনের এই উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের নজর এড়িয়ে যায়।

জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিবিদেরাও জানতে পারেন না যে তাঁদের দেশের সেবা খাতগুলো চীনাদের কাছে চলে যাচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তারাও তা সময়মতো টের পান না

স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে চীন এমন এক রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে, যা পরে জাতীয় পর্যায়ে কাজে লাগে।

তা ছাড়া কম দামে উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি তৈরিতে চীন সবার চেয়ে এগিয়ে।

বড়জোর কিছু ফিচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ফলে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো চীনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে খুব বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়ে।

এভাবে বাণিজ্যিক চুক্তিগুলো একসময় রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ারে পরিণত হয়।

তবে অনেকের কাছে বিকল্প না থাকায় চীনের এই চুক্তিগুলোই সবচেয়ে লাভজনক মনে হয়।

তাঁরা মনে করেন, এটি তাঁদের অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা সংকট মেটানোর সবচেয়ে দ্রুত উপায়।

যেহেতু চীন কাজের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নিজেদের নীতি ঠিক করে, তাই যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাদের পেছনে পড়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা এখনো ভাবছে চীন কেবল বড় বড় বন্দর, ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক কিংবা মহাকাশ গবেষণা প্রকল্প দিয়ে লাতিন আমেরিকায় আধিপত্য বিস্তার করতে চায়।

নাতালিয়া কোতে-মুনিওস বর্তমানে ভ্যান্টেজ পয়েন্ট স্ট্র্যাটেজিসের ম্যানেজিং পার্টনার ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফরেন এফেয়ার্স থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।